রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও ক্লাস-পরীক্ষ বর্জন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রবিবার সকাল ১০টায় ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিনেট ভবনের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে মৌন মিছিল ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করে। মিছিল শেষে তারা পুনরায় সিনেট ভবনের সামনে এসে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষর্থীরা অবরোধ কর্মসূচি শেষ করে শিক্ষক সমিতির মৌন মিছিল ও সমাবেশে যোগ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করে।
শিক্ষক সমিতির সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে লিখনি ও সমাবেশের মাধ্যমে দিনব্যাপী প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সাইদুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা প্রমুখ।
সমাবেশে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এখন চরম সঙ্কটে। আমরা হত্যাকারীদের দেখতে পাচ্ছিনা, তাদের শাস্তিও হচ্ছেনা। কিন্তু নিহতের তালিকা বেড়েই চলেছে। যেন আমরা মৃত্যুর মিছিলে যোগ দিয়েছি। এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে আতঙ্কের সংস্কৃতি দেখতে পাচ্ছি। আমরা আতঙ্কের সংস্কৃতি নয়, আইনের শাসন দেখতে চাই।
সমাবেশ থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয় শিক্ষক সমিতি। রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহী মহানগরীরর জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের কথা রয়েছে।
এদিকে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রাবি শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল জোটের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রবি ও সোমবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়। এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা। IMG0
এতে বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনু, অধ্যাপক ড. পিএম শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান, প্রভাষক ইমরান হোসেন প্রমুখ।
সর্বাত্মক ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাবিতে রবিবার সর্বাত্মক ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন পালিত হয়েছে। গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির এক জরুরি সাধারণ সভায় এ কর্মসূচির আহ্বান করা হয়। সোমবারও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলবে।
হত্যার বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
রবিবার দুপুর ১টার দিকে শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যার বিচার দাবিতে পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন দাবি ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হলো- আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা, প্রতি ২৪ ঘণ্টা য় হত্যা মামলার তদন্ত সম্পর্কে মিডিয়ার মাধ্যমে ইংরেজি বিভাগকে অবহিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরপত্তা নিশ্চিত করা, ধারালো অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় ও বহনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
এছাড়া ঘোষিত কর্মসূচি সোমবার থেকে পালিত হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রাবিসহ রাজশাহীর সকল প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন, সকাল ১১টায় নগরীর আলুপট্টি থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, আগামী তিনদিন বিভাগের ক্লাশ পরীক্ষা বর্জন, সপ্তাহব্যাপী সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন এবং আজ সকাল ১১টায় বিভাগে শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে।