ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের চলতি আসরের সবচেয়ে জমজমাট ম্যাচটি দেখলো বিকেএসপি। বারবার রং পাল্টানো ম্যাচ শেষ পর্যন্ত হয়েছে ড্র। পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে লিজেন্ড অফ রুপগঞ্জ ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব।
মোশাররফ রুবেল হয়তো আফসোসই করছেন ‘ইশ যদি ওই সময় ওই শটটা না খেলতাম।তাহলে ম্যাচটা জিতেই জেতাম।’ তবে ম্যাচের পরিস্থিতি যেমন ছিল এমন পরিস্থিতে ম্যাচটি যেহেতু টাই হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকার কথা অধিনায়ক মোশাররফ রুবেলের।
শেষ উইকেটে আবু হায়দার রনি ও তাইজুল ইসলাম ২৪ রানের জুটি বেঁধে ম্যাচটি টাই করেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রূপগঞ্জের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ৭ রান। ক্রিজে তাইজুল ইসলাম; বোলার ফজলে রাব্বি। শেষ বলে রাব্বির বলে মাথার ওপর দিয়ে স্ট্রেইট ছক্কা মেরে ম্যাচটি টাই করলো লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ম্যাচটি টাইয়ের ফলে দুই দল একটি করে পয়েন্ট পাবে।
এদিন বিকেএসপিতে টসে জিতে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। আল আমিনের সেঞ্চুরি ও ফজলে মাহমুদের হাফসেঞ্চুরিতে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ৩১৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। আল আমিন তার লিস্ট ‘এ’ এর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ১১৩ বলে ১১ চার ও এক ছয়ে ১০২ রানের ইনিংস খেলে আউট হন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
তবে শুরুতেই হোঁচট খায় ভিক্টোরিয়া। আব্দুল মজিদ ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হলে মাঠে নামেন মুমিনুল হক। কিন্তু ১৩ রানে তিনিও ফিরে যান।
এরপর ফজলে মাহমুদ ও আল আমিন মিলে ১২৯ রানের জুটি গড়েন। ব্যক্তিগত ৭৩ রানে ফজলে মাহবুব, আলাউদ্দিন বাবুর রিটার্ন ক্যাচ নিয়ে বিদায় নেন। তিনি ফিরে গেলেও আল আমিন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন।
ভিক্টোরিয়ার হয়ে অন্য ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ভিক্টোরিয়ার বিদেশি ক্রিকেটার শ্রীলঙ্কান চাতুরাঙ্গা ডি সিলভা ৪৪ রান করেন। এছাড়া ধীমান ঘোষ ৩১ ও এনামুল হক জুনিয়র ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। সবমিলিয়ে নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ভিক্টোরিয়া।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বোলারদের মধ্যে আবু হায়দার রনি ১০ ওভার বল করে ৫২ রান খরচায় নিয়েছেন ৫টি উইকেট। এছাড়া আলাউদ্দিন বাবু নিয়েছেন তিনটি উইকেট।
৩১৫ রানের বড় টার্গেট সামনে রেখে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৩১৪ রানে থেমে যায়। মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা লড়াই করলেও টপ অর্ডারদের ব্যর্থতার কারণে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় বঞ্চিত হয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ।
দলীয় ৬ রানের মধ্যে ওপেনার জহিরুল ইসলাম অমি ফিরে যান সাজঘরে। এরপর ৩০ রানের মধ্যে জুনায়েদ ও সৌম্য ফিরে গেলে ফিকে হয়ে যায় রূপগঞ্জের আশা।
অধিনায়ক মোশাররফ হোসেন ও নাহিদুল ইসলামের ১০৯ রানের জুটিতে জয়ের স্বপ্নটা উঁকি দিতে থাকে। কিন্তু নাহিদুল ইসলাম ৫৭ ও মোশাররফ হোসেন ৮৮ রানে বিদায়ের পর স্বপ্নটার অপমৃত্যু ঘটে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রূপগঞ্জের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। ক্রিজে তখন আবু হায়দার রনি ও তাইজুল ইসলাম। তারা দুজন মিলে ২৪ রানের জুটি গড়েন।