ভারতে লোকসভা নির্বাচন

মাঠের লড়াই শুরু

তালেব রানা

 

ভারতে এখন বইছে নির্বাচনের ‘গরম’ হাওয়া। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা, সভা-সমাবেশ। বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হচ্ছে প্রার্থীর নাম, চলছে জোট ভাঙা-গড়ার খেলা। ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জোর চেষ্টাও চলছে দলগুলোর নেতাদের। কারণ আগামী মে মাসেই নির্ধারিত হবে কারা বসছেন দিল্লির মসনদে।

গত সপ্তাহে ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ দফায় লোকসভার ৫৪৩টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। ১১ এপ্রিল থেকে শুরু এবং শেষ দফার ভোট হবে ১৯ মে। ভোট গণনা হবে ২৩ মে। আবারো নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি, নাকি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় আসছে, সেটা ওই দিনই জানা যাবে। এবার ভারতের মোট ভোটার ৯০ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে ৮ কোটিই নতুন ভোটার। যাদের কাছে দলগুলোর প্রত্যাশা অনেক।

তফসিল অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ এবং বিহার রাজ্যে ভোট গ্রহণ হবে ৭ দফায়। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটে ভোট হবে এক দফায়। এছাড়া মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশায় ৪ দফায় ভোট গ্রহণ হবে। জম্মু-কাশ্মিরে ভোট গ্রহণ হবে ৫ দফায়। সারা দেশে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনও হবে অন্ধ্র প্রদেশ, ওড়িশা, সিকিম এবং অরুণাচলে। তবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকা জম্মু-কাশ্মিরে এখনই বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে না। সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসনের ৬ মাসের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মে মাসে ভোট হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী আচরণ-বিধি কার্যকর হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল মোট ৯ দফায়। সেবার ভোটগ্রহণ শুরু হয় ৮ এপ্রিল এবং শেষ হয়েছিল ১২ মে।

তফসিল ঘোষণার পর ভারতের সবচেয়ে পুরনো দল কংগ্রেস তাদের কিছু প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী ও সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। তবে গান্ধী পরিবারের অন্যতম জনপ্রিয় সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বলে এখন পর্যন্ত জানানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপিও শিগগিরই তাদের প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করবে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসও চমক দিয়ে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে। নতুন প্রার্থীদের মধ্যে নতুন মুখ ১৭ জন। বাদ পড়লেন ৮ এমপি। অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ও নূসরত জাহানকে প্রার্থী করবে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতা আগেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ৪২ আসনের মধ্যে ৪২টিই জিততে চান। সেই লক্ষ্যেই একাধিক আসনে নতুন প্রার্থী বলে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

শুধু প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ নয়, ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায়ও নেমে গেছেন নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুরুতেই সকল ভোটারকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গত বুধবার প্রচারণার অংশ হিসেবে হঠাত্ করেই প্রায় ৩০টির মতো টুইট করেন। এসব টুইটে রাজনীতি, ক্রীড়া, শিল্পপতি, সাংবাদিক, বলিউডের প্রায় একশ’ জনের মতো বিশিষ্ট অভিনেতা, পরিচালকদের ট্যাগ করেন। তাদের কাছে আবেদন করেন, সকলে যেন তাদের ভক্ত ও দেশের নাগরিকদের ভোটদানের জন্য আহ্বান জানান।

কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম মুখ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী শুরুতেই মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছেন। গুজরাট দিয়েই নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছে কংগ্রেস। সেখানে প্রিয়াঙ্কা বলেন, দেশভক্তির কথা বলে নরেন্দ্র মোদী ভোটের অভিমুখ ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। সে ফাঁদে পা দেওয়া উচিত নয়। সচেতনতার থেকে বড় দেশভক্তি নেই। ভোটারদের সচেতনতাই অস্ত্র, ভোটই অস্ত্র।

মোদী সরকারকে আক্রমণ করতে অন্যদের থেকে পিছিয়ে নেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যের সকল ভোটকেন্দ্রকে সংবেদনশীল ঘোষণা করতে বিজেপির দাবির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, দেশে অঘোষিত ‘সুপার-ইমার্জেন্সি’ চলছে। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার আনার জন্যই মোদীকে সরতে হবে।

ব্যাপক বেকারত্ব ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অসন্তোষের কারণে এবারের নির্বাচনে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে সত্য হলো বিরোধীরা যতই শক্তভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিক না কেন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে অন্য যেকোনো বিরোধী দলীয় নেতার চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিভিন্ন জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে বারবারই। তাই আসন্ন নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর বিপরীতে বিরোধীরা কাকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে সামনে আনতে পারে আর জনগণকে তিনি কতটা আকৃষ্ট করতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।