‘ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু আর বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ’

­­­­­­­­­আশেক খান আলেখীন

 

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন (১৮৭৯-১৯৫৫)। এ যাবত্কালের সেরা বিজ্ঞানীদের একজন। ছিলেন একজন দার্শনিকও। কেউ কেউ তাকে মানব ইতিহাসের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী’ বলেও অভিহিত করে থাকেন। থিওরি অব রিলেটিভিটির জনক নোবেলজয়ী এই পদার্থবিদের জন্মদিন ছিল গত ১৪ই মার্চ। অনেকটা নিরবেই যেন চলে গেল দিনটি। কিছুটা দেরিতে হলেও তাকে স্মরণ করে আমাদের আজকের এই লেখা। তারই কিছু কালজয়ী উদ্ধৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে লেখাটি, যেসব উক্তি মানুষের জানার এবং সামনে চলার পাথেয় হয়ে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও সম্ভবত থাকবে:

‘আমি জন্ম সূত্রে একজন ইহুদি, নাগরিকত্বে একজন সুইস এবং চেহারা সুরতে একজন মানুষ। এই শেষ পরিচয়টাই (মানুষ) আমি পছন্দ করবো যে কোন নির্দিষ্ট দেশ বা জাতীয়তার গন্ডিতে আবদ্ধ নয়।’ ‘মেধাবীদের সর্বদা কম মেধাবীদের প্রবল বিরোধিতা মোকাবিলা করে চলতে হয়।’ ‘সম্পদ, খ্যাতি, জনপ্রিয়তা, বিলাসবহুল জীবন- এগুলো আমার কাছে সবসময়ই গৌন। আমি সাধারণ জীবনযাপনে বিশ্বাসী। আমি মনে করি সাধারণভাবে জীবন কাটানো সকলের জন্যই সর্বাপেক্ষা উত্তম, দেহ ও মন- দুটোরই জন্য।’ ‘সবকিছু আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে, শুরু ও শেষ- দুটোই। যে শক্তির বলে এটি হচ্ছে তার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কোনো এক অদৃশ্য বংশীবাদকের রহস্যময় সুরের ছন্দে যেন আমরা নেচে চলেছি।’

‘ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান পঙ্গু, আর বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ।’ ‘জ্ঞানের চেয়ে কল্পনার গুরুত্ব বেশি। কারণ জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে আর কল্পনার কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।’ ‘একজন সফল মানুষ হওয়ার চেয়ে একজন মানসম্পন্ন মানুষ হওয়াটা অনেক বেশি জরুরি।’ ‘কর্তৃপক্ষের প্রতি অন্ধ আনুগত্যই হচ্ছে সত্যের সবচেয়ে বড় শত্রু।’ ‘অনবরত প্রশ্ন করে যেতে হবে, প্রশ্ন করা থামিয়ে দেয়া চলবে না।’ ‘জীবন অনেকটা বাইসাইকেল চালানোর মত। ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে তোমাকে এগিয়ে যেতেই হবে।’ ‘যে যত বেশি মেধাবী, পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বদলাবার ক্ষমতাও তার ততো বেশি।’ ‘দুটো জিনিসের কোনো শেষ নেই- বিশ্ব ব্রহ্মান্ড এবং মানুষের বোকামি। অবশ্য বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।’ (অর্থাত্ বিশ্ব ব্রহ্মান্ড বা ইউনিভার্সের শেষ যদি থেকেও থাকে, মানুষের বোকামির কোনো শেষ নেই)।

সূত্র: নিউজউইক