জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হরতাল পালনকালে প্রক্টরের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর ঘটনায় প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জুবায়ের টিপু বলেন,কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুসহ সকল গুম, হত্যা ও ধর্ষনের বিচারের দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সা্ম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের ডাকে আজ সোমবার অর্ধ-দিবস হরতালে সারাদেশের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও শান্তিপূর্ণ ভাবে হরতাল পালন করছিল। এ সময় প্রক্টরের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেইটে শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালায় পুলিশ। এতে তিনজন গুরুতর আহত এবং ১২জন গ্রেফতার হন।
আহতদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও রয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কোনোরূপ সবুজ সংকেত ছাড়া এ ধরনের কোনো হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটতে পারে না। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, ঘটনার সময় প্রক্টরিয়াল বডি এবং নিরাপত্তা কর্মকতারা নীরব ভূমিকায় ছিলেন। যা তাদের দায়িত্বে অবহেলার স্পষ্ট প্রকাশ।
এ অবস্থায় প্রগতিশীল ছাত্রজোট, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য এবং জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে সর্বোতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তার প্রক্টর থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। এ অবস্থায় আমরা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি আদায়ে আগামীকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও এবং উপাচার্যকে প্রক্টরের অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া কালকের মধ্যে এ দাবি মানা না হলে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল,সহ-সভাপতি ইমরান নাদিম, ছাত্র ফন্টের সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম,সহ-সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক প্রমুখ।