বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক
বিয়ের সময় ছেলের বাবা যৌতুক দাবি করে আর তা মেটাতে গিয়ে মেয়ের বাবার ঘাম ছুটে যায়। এমনটাই আমরা জানি। কিন্তু চীনে সিস্টেমটা উল্টো- সেখানে ছেলের জন্য বউ আনতে গেলে তার বাবাকে ‘হাত খুলতে’ হয়। তার মানে বড় অঙ্কের যৌতুক দেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়। এমনকি অনেক ছেলের বাবাদের পুত্রবধূর মুখ দেখতে ধারদেনা করে ফতুর হতে হচ্ছে। যৌতুক দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় বহু বিবাহযোগ্য পাত্রের বিয়ে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চীনে নিয়মিত বাড়ছে ‘কন্যাপণের’ মূল্য। হবু শ্বশুরের দাবি মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিয়ে করতে ইচ্ছুক পাত্ররা। কয়েক বছর আগেও মেয়ে বিয়ে দেয়ার সময় পাত্রীপক্ষ পাত্রের কাছে যে ‘যৌতুক’ বা পণ দাবি করত তা মোটামুটি ১১ হাজার ইউয়ান বা ১ হাজার ৬৩৯ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। কিন্তু বর্তমানে হবু জামাতার বাবার কাছে এর কয়েক গুণ নগদ অর্থ, গাড়ি এবং বাড়ির দাবি করছেন পাত্রীর অভিভাবকরা। যত যোগ্য পাত্রী, যৌতুকের অঙ্ক তত বড়। চীনের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে বিয়ে করতে হলে পাত্রকে প্রায় ৭ লক্ষ ইউয়ান খরচের জন্য তৈরি থাকতে হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্যের কারণে সমপ্রতি কন্যাপণের বোঝা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, চীনের গ্রামাঞ্চলে মাথাপিছু গড় আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বছরে ১৫ হাজার ইউয়ান বা ২ হাজার ২৩৪ ডলার। শহরে এই পরিমাণের প্রায় তিন গুণ আয় হয়। চলতি বছরে জাতীয় অর্থনীতি ফের হোঁচট খাওয়ার জেরে মনমতো পাত্রী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অবিবাহিত যুবকদের চীনের গ্রাম্য সমাজে নিরন্তর গঞ্জনা সহ্যের রীতি প্রচলিত। এই পরিস্থিতির জন্য পাত্রীদের বাবা-মায়ের কাঁধে দোষ চাপছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, অতিরিক্ত লোভের কারণে বহু যুবককে মেয়ের বাবা-মা হতাশার মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তবে বিবাহেচ্ছুক পাত্রদের সরকারি ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে চীনের শাংঝি প্রদেশের তাইয়ুন শহর কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সাল থেকে চালু করা এই প্রকল্পে নববিবাহিতদের বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি তোলা, ভোজসভা ও মধুচন্দ্রিমায় ভ্রমণের খরচ ছাড়াও নতুন সংসার পাতার জন্য গৃহস্থালির জিনিসপত্রের খরচ জোগাচ্ছে প্রশাসন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া