চায়ের দাম সোনার দামের চেয়ে বেশি। শুধু বেশি না তাও নাকি ৩০ গুণ। শুনলেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। কিন্তু এটাই সত্যি।
এই চা উৎপাদন করা হয় এবং লাখ লাখ টাকা খরচ করে মানুষ তা পানও করেন। চীনে তৈরি এই চায়ের নাম হল ‘ডা হং পাও’।
বিবিসি’র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চায়ের ইতিবৃত্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০২ সালে এক ধনী ক্রেতা ২০ গ্রাম চা কেনার জন্য ব্যয় করেছিলেন ২৮ হাজার মার্কিন ডলার ( ২২ লাখ টাকা)। অর্থাৎ প্রতি গ্রাম চায়ের জন্য তিনি খরচ করেছিলেন ১৪শ’ ডলার। এটাই বিশ্বের সবচেয়ে দামি চা।
এই চা উৎপাদিত হয় দক্ষিণ চীনের কুয়াশাচ্ছন্ন নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ে ঘেরা ফুজিয়ানের উয়িশানে। স্থানীয় চা উৎপাদনকারী জিয়াও হুই বলেন, এই চা দেখলে মনে হবে তা ভিখারির জন্য কিন্তু যে দাম তা সম্রাট এবং বুদ্ধের মতো যাদের হৃদয় আছে তাদের জন্যই বলতে হবে।
জিয়াও ও তার পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে এই চা উৎপাদন করছে। উয়িশানে ‘ডা হং পাও’ কম দামেও পাওয়া যায়। কিন্তু সেটা আসল ‘ডা হং পাও’ নয়। আসল চা দামি হওয়ার কারণ হল এই চায়ের আসল গাছের সংখ্যা এখন খুবই কম।
স্থানীয় টি মাস্টার জিয়াংনিং উ বলেন, এই প্রাচীন গাছ খুবই দামি, এক কথায় বললে অমূল্য। এই চায়ের উৎপাদন খুবই সীমিত। বছরে মাত্র কয়েক শ’ গ্রাম আসল ‘ডা হং পাও’ উৎপাদিত হয় এবং গাছগুলো সব সময় সশস্ত্র পাহারায় থাকে। এই চা শুধু চীনা ধনীরা পান করেন তা নয়। চীনের বাইরে ব্রিটেনসহ অনেক দেশের মানুষের কাছে এই চায়ের চাহিদা আছে।
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ‘ডা হং পাও’ চায়ে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। চীনের লৌকিক কাহিনী বলে মিং সাম্রাজ্যের এক সম্রাটের মা এই চা পান করে আরোগ্য লাভ করেছিলেন।