রাবিতে রেজাউল হত্যাকাণ্ড: আন্দোলনে উৎসাহ নেই শিক্ষকদের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীর হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। তবে এ দাবির আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষকদের মধ্যে তেমন উৎসাহ নেই বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এতে করে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
 
বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, পে-স্কেলে গ্রেডিং পদ্ধতিতে সম্মান অক্ষুণ্নের নাম করে শিক্ষকরা বেতন বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগাতার আন্দোলন করেন। বেশ কয়েকদিন ক্লাসও বর্জন করেন। কিন্তু সহকর্মী হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবির আন্দোলনে তাদের কোনো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না।’
 
শিক্ষার্থীদের আরো অভিযোগ, আন্দোলন ছেড়ে ক্লাসে আসার জন্য তাদের পরোক্ষভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘কিছু শিক্ষক আন্দোলনের প্রতি এমন নির্লিপ্ততা দেখাচ্ছেন। যেন তারা নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বোঝেন না।’
নিজের আপন ভাই হত্যার শিকার হলেও তারা হয়তো ঘর থেকে বের হবে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে শিক্ষক সমিতি। তবে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১২০০ শিক্ষকের মধ্যে দেড় শ শিক্ষককে উপস্থিত হতে দেখা গেছে,
এতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্ব করেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আজম শান্তনুর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
 
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বিথীকা বণিক, সহযোগী অধ্যাপক শফিউল আলম, আখতার বাণূ, সহকারী অধ্যাপক কাজী রবিউল আউয়াল ও সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।
 
বক্তারা বলেন, ‘আমরা প্রতাশা করেছিলাম শিক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ হত্যার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে এখানে আসবেন। কিন্তু তারা আসেন নাই। তারা যদি অন্তত একবার আসতেন এবং অধ্যাপক রেজাউলের পরিবারকে এসে সান্তনা দিতেন, তাহলে আমরা বুঝতাম এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে এবং আমরা সঠিক বিচার পাব।’
 
মানববন্ধন থেকে শনিবার ও রবিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।
 
এদিকে হত্যার ষষ্ঠদিন বৃহস্পতিবার সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মুকুল প্রতিবাদ ও সংহতি মঞ্চ থেকে মৌন মিছিল করে। অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর ডাক নামে গত বুধবার বিকেলে মুকুল মঞ্চটি গঠন করে ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ইংরেজী বিভাগের এ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিনেট ভবনের সামনে সমবেত হয়। সেখানে সমাবেশ শেষে তারা মুকুল মঞ্চের সামনে গিয়ে জড়ো হয়।
 
এর আগে সকাল নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে তারা ইংরেজী বিভাগের মৌন মিছিলে অংশগ্রহণ করে।
 
এছাড়াও নাট্যকলা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ফার্মেসী, নৃবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও বাংলা বিভাগ এবং চারুকলা অনুষদ মিছিল করে।

 

অন্যদিকে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ছাত্রলীগ। রাবি শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধন শেষে তারা হত্যার বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।