নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আবারও সুযোগ করে দিচ্ছে গ্রামীনফোন। ২০১৫ সালে এসডি এশিয়া এবং গ্রামীণফোন চালু করেছিল ‘জিপি এক্সিলেরেটর’ প্রোগ্রাম। এবার তার দ্বিতীয় পর্বের বাছাই শুরু হতে যাচ্ছে।
অনেক টেক উদ্যোক্তাই ব্যবসা শুরুর মাঝপথে এসে প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবে পিছিয়ে যান। কেউবা সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তাদের জন্যই এসডি এশিয়া এবং গ্রামীণফোন নিয়ে এসেছে এক্সিলেরেটর প্রোগ্রাম।
এসডি এশিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা সামাদ মিরালি প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানান, ‘চার মাস ধরে প্রথম ব্যাচের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখেছি। এখন জিপি এক্সিলেরেটর টিম নতুন পাঁচটি স্টার্টআপ নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য মুখিয়ে আছে। আশা করছি নতুন ব্যাচ আরও সুন্দর করে শুরু করতে পারবো। নতুন স্টার্টআপদের সাথে কাজ করতে এখন আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।
‘জিপি এক্সিলেরেটর’ প্রোগ্রামের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর ফয়সাল কবির জানান, ‘সেরা দলের চেয়ে উপযুক্ত দলই বেছে নেয়ার ল্য আমাদের। প্রেজেন্টেশন পর্ব থেকে নতুন প্রোডাক্ট তৈরি পর্যায়ে নিয়ে আসছে এসব স্টার্টআপ। অনেক ভাল আইডিয়া হয়েও কাস্টমারদের সেরা সেবা দিতে পারছে কিনা সেটাও আমরা চিন্তা করে দেখছি। নতুন ব্যাচের েেত্র সেসব দিকও বিবেচনা করা হবে।’
নতুন সব টেক স্টার্টআপদের সুযোগ করে দেবে ‘জিপি এক্সিলেরেটর’ প্রোগ্রাম। দ্বিতীয় পর্বের ‘জিপি এক্সিলেরেটর’ প্রোগ্রামের জন্য সেরা ৫টি স্টার্টআপ বাছাই কর হবে। সেই প্রক্রিয়ার শেষে ডেমোডেতে তাদের প্রজেক্ট গুলো বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে। নির্বাচিত প্রকল্প গুলো প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য ১০ ল্য টাকা পাবেন। এছাড়াও তারা গ্রামীনফোনের প্রধান কার্যালয় ‘জিপি হাউজে’ তাদের প্রকল্প নিয়ে কাজ করার জন্য অফিস স্পেস পাবেন। এই প্রকল্পের প্রধান ল্য হবে সম্ভাবনাময় টেক স্টার্ট-আপ গুলো সঠিক মেন্টরশিপ এবং ফান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া।
টেক নিয়ে যেকোনো স্টার্টআপই এই প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সেরা ৫টি স্টার্ট আপ খুঁজে নেবার দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করবে এসডি এশিয়া এবং গ্রামীণফোন।
‘জিপি এক্সিলেরেটর’ প্রোগ্রামের দ্বিতীয় পর্বের বাছাই প্রসঙ্গে এসডি এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মোস্তফিজুর রাহমান খান জানান, ‘এবারের ব্যাচে আমরা পুরো দল হিসেবে যেসব স্টার্টআপ কাজ করত পারছে তাদেরকেই বাচাই করতে চাই। যাদের সুগঠিত বিজনেস মডেল আছে এবং ব্যবসা সফল হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে তারাই এগিয়ে থাকবে’।
প্রোগ্রামের ভিশন সম্পর্কে এসডি এশিয়ার সহপ্রতিষ্ঠাতা ফায়াজ তাহের বলেন, ‘আমাদের ভিশন হচ্ছে স্টার্টআপগুলোকে তাদের সম্ভাব্য কাস্টমারদের কাছে পৌঁছে দেয়া, কারণ কাস্টমাররাই ব্যবসার সেরা বিনিয়োগকারী।’
২০১৩ সালে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি দিয়ে মুস্তাফিজুর রাহমান খানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল এসডি এশিয়া। সেই ডকুমেন্টারি থেকেই সাড়া পৃথিবী থেকে নয় হাজার মার্কিন ডলার সমমানের ফান্ড সংগ্রহ করেছিল এসডি এশিয়া। সেখান থেকেই বাংলাদেশের টেক স্টার্টআপগুলোকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ শুরু করে এসডি এশিয়া। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল নেটওয়ার্ক গ্রামীণফোন যোগ দেয় এসডি এশিয়ার এই উদ্যোগের সাথে।