দেশে ১৪টি যৌনপল্লীতে ২০ হাজার শিশু বাস করছে। সরকারি হিসাব মতে, ৬ লাখ ৭৪ হাজার শিশু রাস্তায় বাস করে, যাদের মধ্যে ঢাকা শহরে আড়াই লাখের বেশি। ৪ লাখের অধিক শিশু গৃহশ্রমিক হিসেবে কর্মরত। এই সকল শিশু নানাভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার। শিশুর এই বাণিজ্যিক যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং বেসরকারি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা টেরে দেস হোমস্ নেদারল্যান্ডস্-এর কারিগরি সহায়তায় তিনটি জাতীয় শিশু অধিকার বিষয়ক সংস্থা নতুন প্রকল্প শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কমব্যাটিং কমার্শিয়াল সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অব চিল্ড্রেন শীর্ষক প্রকল্প এবং এর ওয়েবসাইট www.ccsectdhnl.org-এর উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া।
অনুষ্ঠানে টেরে দেস হোমস্ নেদারল্যান্ডসের দেশীয় পরিচালক মাহমুদুল কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মত্স্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটি ও শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস-এর চেয়ারপারসন মীর শওকত আলী বাদশা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বিকাশ কিশোর দাশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ ডেলিগেশনের হেড অব কো-অপারেশন-হেড অব ইউনিট মারিও রনকোনি। প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্প প্রধান চৌধুরী মোহাম্মদ তাইয়ুব তাজাম্মুল রানা।
সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিসেস (এসএসএস) এবং ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) ‘কমব্যাটিং কমার্শিয়াল সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন অব চিল্ড্রেন’ প্রকল্পটি গত ১ জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন করছে। ৪২ মাসব্যাপী এ প্রকল্প মিরপুর এলাকায় ৭০০ পথশিশু ও টাঙ্গাইল যৌনপল্লী এলাকায় ৩০০ শিশুকে ড্রপইন সেন্টারে আনার মাধ্যমে তার উন্নয়নে কাজ করবে। প্রকল্পটি প্রতিরোধ, বিধান, প্রচারণা এবং আইনি সহায়তা প্রদানে কাজ করবে বলে জানানো হয়। তাদের সেন্টারে এনে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি , স্বাস্থ্য সেবা এবং সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।
মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, বর্তমান সরকার শিশুবান্ধব। শিশুদের উন্নয়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই উদ্যোগুলোকে টেকসই করতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতন বন্ধে সরকার অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় আরো বাড়ানো প্রয়োজন।
বিকাশ কিশোর দাশ বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধে কাজ করে চলেছে। তবে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যেমন সমাজ সেবা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এই প্রকল্পে সরকারের সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করার সুপারিশ দেন তিনি।
মারিও রনকোনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের যৌন নিপীড়ন বন্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিশু উন্নয়নের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই প্রকল্পে সহায়তা করছে। তিনি আরো বলেন, শিশু যৌন নিপীড়ন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশের মতো ইউরোপেও এই সমস্যা বিদ্যমান। তিনি বলেন, এ সমস্য প্রতিরোধের তথ্য-প্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে। ইইউ শিশু যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধসহ সকল মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।