অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যেই গুপ্তহত্যা: নাসিম

যুদ্ধাপরাধীদের ‘বিচার বন্ধ’ এবং ‘অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের’ উদ্দেশ্য নিয়েই ধারাবাহিক গুপ্তহত্যার মাধ্যমে দেশে ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির’ চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের সভার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
 
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, আজকে সুগভীর চক্রান্ত করা হচ্ছে, আবার যেন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে একটি অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে দেশের ক্ষমতা পরিবর্তন করা যায় এবং একাত্তরের ঘাতকদের বিচার বন্ধ করা যায়। দুই দিনের ব্যবধানে রাজশাহীতে শিক্ষক এবং কলাবাগানে বাড়িতে ঢুকে দুজনকে কুপিয়ে হত্যার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের এই বক্তব্য এলো।
 
গত শনিবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে তার বাসার কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর সোমবার বিকালে কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় বাসায় ঢুকে খুন করা হয় ইউএসএআইডি কর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু লোকনাট্য দলের মাহবুব রাব্বী তনয়কে।
 
ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে বিএনপি-জামায়াত চক্র বিভিন্ন স্থানে ‘পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা’ চালাচ্ছে। এর সূত্র ধরে নাসিম সংবাদ সম্মেলনে বলেন,  ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। তখন ১৪ দল শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনায় সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে। 
 
দেশের পরিস্থিতি যখন ‘স্থিতিশীল’ হচ্ছে, বাংলাদেশ যখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ‘এগিয়ে যাচ্ছে’, তখনই একটি মহল ‘চক্রান্ত শুরু করেছে’ বলে মন্তব্য করেন নাসিম। গত কয়েক মাস ধরে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে একটাই, কারণ আমরা গণতান্ত্রিক চেতনায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি।
 
তিনি বলেন, অতীতে যেমন ১৪ দল সকল চক্রান্ত মোকাবেলা করেছে, আজও বিএনপি-জামায়াত জোটের যে কোনো চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মোকাবেলা করবে। সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে ১৪ দল উদ্বিগ্ন জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। আমাদের নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, জাসদ একাংশের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাসদ অন্য অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাসদ আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।