বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএইড কর্মী জুলহাজ মান্নানসহ ব্লগার, লেখক প্রকাশকদের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে এই আশঙ্কা ব্যক্ত করলো দেশটি।
ব্লগার, লেখক, বিদেশি ও সংখ্যালঘুদের উপর হত্যাকাণ্ডের দায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদার উপমহাদেশ শাখা পালাক্রমে দায় স্বীকার করলেও সরকার বরাবরের মতো কোনো বিদেশি জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এসেছে। ইউএসএইডের কর্মী ও সমকামীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা জুলহাজ মান্নান হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা স্বীকার করলেও সেটা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে এতে এই ভয়টা তৈরি হয়েছে যে, সরকার ও বিরোধী দলের দ্বন্দের সুযোগে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর অনুপ্রেরণায় স্থানীয় উগ্রপন্থিরা আইএস কিংবা আল কায়েদার স্থান করে দিতে পারে দেশে।
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী টনি ব্লিনকেন বৃহস্পতিবার বলেছেন, সরকার যতোই বিরোধী দলকে এসব হামলার জন্য অভিযুক্ত করুক না কেন এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণে মনে হচ্ছে স্থানীয় অথবা আন্তর্জাতিক আইএস অথবা আল কায়েদা সদস্যরাই এই হামলার পেছনে রয়েছে। তিনি বলেন, এই কারণেই আমাদের আশঙ্কা আইএস বাংলাদেশে শিকড় গাড়তে পারে, যা আমার কখনো চাই না।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, সরকার মৃত্যুহুমকি পাওয়া লেখকদের প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল না কারণ তাদের মতে কিছু ঈশ্বরে অবিশ্বাসী লেখকের কারণে তাদের সমর্থন করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয় করে। এইসব ঘটনায় অনেককে আটক করা হলেও কারো এখনো শাস্তি হয়নি এবং এখনো এসব ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে আটক করা হয়নি।
আল কায়েদা ও আইএস দুই জঙ্গি সংগঠনই বাংলাদেশে অবস্থান তৈরি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০১৪ সালে আল কায়েদা প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি বাংলাদেশে জিহাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। এদিকে আইএস এর মুখপাত্র দাবিক ম্যাগাজিনে বাংলাদেশকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপনা করা হচ্ছে। ম্যাগাজিনের এপ্রিল ইস্যুতে আইএস এর তথাকথিত বাংলাদেশ প্রধান আবু ইব্রাহিম আল হানিফ বলেন, বৈশ্বিক জিহাদের জন্য বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানটি গুরুত্বপুর্ণ। এখানে ঘাটি গড়ে তুলতে পারলে ভারতের অভ্যন্তরে গেরিলা হামলা চালানো যাবে এবং মিয়ানমারেও জিহাদ শুরু করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট উচ্চঝুঁকির মধ্যে থাকা কিছু ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়ার কথা ভাবছে। গত ডিসেম্বর থেকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দাবি জানিয়ে আসছিল। ওয়াশিংটন মনে করে, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুর মতের প্রতি শ্রদ্ধা ও দারিদ্র দূরীকরণে সফলতা পেলেও ১৬ কোটির এই দেশ ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের চারণভূমি হয়ে উঠতে পারে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ লিসা কার্টিস বলেন, বাংলাদেশকে আমরা সবসময় মডেল মুসলিম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তুলে ধরেছি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেটি বদলে যাচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরোধী দলের দমননীতির সুযোগে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে। সব হামলার দায় বিরোধী দলের উপর চাপালেও তারা সব সময় সেটি অস্বীকার করে আসছে এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতাকে এর জন্য দায়ী করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে জঙ্গি বিরোধী লড়াইয়ে সহযোগিতা করবে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান করবে। গত কয়েক মাসে মার্কিন ও বাংলাদেশি কর্মকর্তারা এই ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এপি।