‘৩০টি হিন্দু পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে’

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শাহীনুর রহমান শাহীন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে পাশাপোল ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি হিন্দু পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছে।
 
শুক্রবার যশোরের চৌগাছার উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন শেষে বিকালে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।  তিনি বলেন, এলাকার ত্রাস শাহীন ও তার বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।
 
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, চৌগাছা উপজেলার ২ নম্বর পাশাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান শাহীন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন শুরু করেছে। তার নির্যাতনে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৩০টি পরিবারের দেড় শতাধিক সদস্য ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
 
শাহীন চেয়ারম্যান ও তার বাহিনীর নির্যাতনে পাশাপোল ইউনিয়নের বারীখালি গ্রামের মোহন, হাজারী, চন্ডী, বিজয়, বাদল, নিখিল, গোপাল, প্রসেন, দীপক, নিতাই, পবিত্র, অজিতের তিন পুত্র, মহাদেব, শান্তিরামের পুত্র, বলয়, তুষার, তপন, কুশপদ, দীপক ও বিমল নিজ নিজ পরিবার নিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। বারীখালি গ্রামের ধীরেন, রানীয়ালি গ্রামের পঞ্চানন বিশ্বাস, মালিগাতি গ্রামের জয়দেব, বড়গোবিন্দপুর গ্রামের কার্তিক শাহীন চেয়ারম্যানের অত্যাচারে ভিটে ছাড়া হয়েছে। তার নির্যাতনে এলাকায় বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
 
অভিযোগে আরো বলা হয়, শাহীন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ড. মহিতোষের কিশোরী মেয়েকে দুইদিন আটকে রেখে তিন বিঘা জমি লিখে নেয়া হয়েছে। পরে ওই পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। শাহীন চেয়ারম্যানের অত্যাচারের বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এরই মধ্যে পুলিশ একজনকে আটকও করেছে।
 
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, শাহীন চেয়ারম্যন সুবিধাবাদী। যখন যে দল আসে, তখন সেই দলের হয়ে আখের গোছায়।
 
অপরদিকে অভয়নগরের মালোপাড়ায় সংখ্যালঘু নির্যাতনে নেতৃত্বদানকারী পরিবারের সদস্যকে প্রেমবাগ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এটা দুঃখজনক ঘটনা। ওই এলাকায় সংখ্যালঘুরা নির্বাচন বর্জন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুণ্ডু, সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।