খালাসের অপেক্ষায় পুলিশের ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে মোক্ষম অস্ত্র হিসাবে বেছে নিয়েছে সাউন্ড গ্রেনেডকে। পুলিশের কাছে থাকা আগের সাউন্ড গ্রেনেডগুলো প্রায় শেষ হয়ে গেছে। একারণে নতুন করে ব্রাজিল থেকে আরো ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আমদানি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এই সাউন্ড গ্রেনেডগুলো বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
 
এদিকে সাউন্ড গ্রেনেড ছাড় করাতে চট্টগ্রাম বন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ৪ কোটি ৯৫ লাখ ২২ হাজার টাকা শুল্ক-ভ্যাট দাবি করে। ঐ টাকার জন্য গত ১০ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-৪। 
 
চিঠিতে বলা হয়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ব্যবহারের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত ১০ হাজার পিস সাউন্ড গ্রেনেড চট্টগ্রাম বন্দর হতে ছাড়করণ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের ক্রেডিট নোটের বিপরীতে দাবিকৃত ৪ কোটি ৯৫ লাখ ২২ হাজার ৬শ’ ৮৫ টাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পরিশোধের জন্য ৬টি কোড নম্বরের বিপরীতে বুক এডজাস্টমেন্ট এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। ব্যয় হওয়া অর্থ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে পুলিশ বাজেটে কাস্টমস শুল্ক ও ভ্যাট খাতে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে নির্বাহ করা হবে। তাই এই অর্থ বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
 
সূত্র জানায়, সামপ্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় দুর্বৃত্তদের ঠেকাতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেডকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তাই পুলিশের কাছে সাউন্ড গ্রেনেডের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। কারণ এতে একদিকে যেমন প্রাণহানি এড়ানো যায়, অন্যদিকে সহিংসতা দমনও অনেকাংশে সহজ হয়। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৫ বছর আগে ৫০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আমদানির উদ্যোগ নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের জন্য চীন থেকে প্রায় ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আনা হয়। সাউন্ড গ্রেনেডের সফল ব্যবহার হয় ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে। সমাবেশকারীদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। পরবর্তীতে আরো বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এই ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড প্রায় শেষ হয়ে গেছে। একারণে জরুরি ভিত্তিতে আরো ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আনার উদ্যোগ নেয় পুলিশ সদর দফতর।
 
পুলিশ সদর দফতরের ইক্যুইপমেন্ট (যন্ত্রপাতি) শাখার একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, ২০ লাখ টাকায় ১০ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে। ব্রাজিল থেকে আনা সাউন্ড গ্রেনেডগুলো বতর্মানে চট্টগ্রাম বন্দরে ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
 
সূত্র আরো জানায়, সাউন্ড গ্রেনেড শুধু এদেশেই নয়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও পাঠানো হয়। কারণ এর কোনো নেতিবাচক দিক নেই। প্রাণ বা অঙ্গহানির আশঙ্কাও নেই। ধোঁয়াও তেমন হয় না। তবে প্রচণ্ড শব্দ হয়। আর প্রচণ্ড শব্দেই দুর্বৃত্তরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। প্রয়োগের ক্ষেত্রে গ্রেনেডের পিন খুলে ছুঁড়ে মারতে হয়। তবে সাউন্ড গ্রেনেড মানুষের কানের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এতে কানের বধিরতা দেখা দিতে পারে। বিকট শব্দের কারণে মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কোনো মানুষের কনের কাছে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরিত হলে তার কান অকেজো হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে হৃদকম্পন বৃদ্ধিসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।