সামিট পাওয়ার লিমিটেড’র ১৩তম বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে উত্পাদিত বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিড লাইনে যুক্ত করা হয়েছে। ১শ’ ১৯ দশমিক ০৫ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি উত্পাদনে ব্যয় হয়েছে ৫শ’ ৭৫ কোটি টাকা। বরিশালে এই প্রথম বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্র চালু হলো। বিদ্যুত্ উত্পাদন ব্যবস্থা দেখতে শুক্রবার সামিট পাওয়ার লিমিটেড’র চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান কোম্পানির বেশ কয়েকজন পরিচালক ও প্রকৌশলীকে নিয়ে বরিশালে যান।
কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী রূপাতলী এলাকায় ৯ একর জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে সামিট পাওয়ার প্লান্ট। গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বরিশালে দেড়শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও এখানে ৪০ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সরকারি পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে। বহু পুরনো ঐ পাওয়ার প্লান্ট এখন ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারে না। পুরনো যন্ত্রপাতির কারণে উত্পাদন ব্যয় অনেক বেশি। এ অঞ্চলে সরকারিভাবে নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একাধিকবার প্রচেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত নানা কারণে তা সফল হয়নি। তাই বরিশালবাসীর জন্য একটি আধুনিক নির্ভরযোগ্য ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বিদ্যুত্ প্লান্ট স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে সামিট পাওয়ার লিমিটেড।
কোম্পানির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এখন বিদ্যুত্ জরুরি প্রয়োজন। এ কারণেই সামিট গ্রুপ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন করেছে। বরিশাল পাওয়ার প্লান্ট সামিটের সর্বশেষ প্লান্ট হিসাবে গত ৫ এপ্রিল থেকে বাণিজ্যিক উত্পাদন শুরু করে। ১শ’ ১৯ দশমিক ০৫ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড (আইপিপি বিদ্যুত্ কেন্দ্র) বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিডিডিবি) এর সাথে সম্পাদিত চুক্তির নির্ধারিত সময়ের দু’মাস আগেই নির্মাণ কাজ শেষ করে উত্পাদন করা সম্ভব হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এ মুহূর্তে ১শ’ ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে। বিদ্যুত্ কেন্দ্রটিতে ওয়াটসিলা ফিনল্যান্ডের সর্বাধুনিক এইচএফও ইঞ্জিন সংযোজন করা হয়েছে। সামিট ওয়েল এন্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড ইঞ্জিনগুলোর জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ করবে। বিদ্যুত্ কেন্দ্রে সব সময় ১৫ দিনের জ্বালানির মজুদ নিশ্চিত করতে ৭ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার সংরক্ষণ ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। নৌ পথে জ্বালানি তেল খালাসের জন্য বিদ্যুত্ কেন্দ্রের পাশেই নিজস্ব জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুত্ পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পের ডিজাইন ও নির্মাণ ফিনল্যান্ডের ওয়াটসিলা কোম্পানি প্রত্যক্ষভাবে তদারকি করেছে। তাই এ কেন্দ্রে কর্মরতদের তেমন কোনো নিরাপত্তাহীনতা নেই। বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ৭০ ভাগ টাকাই অর্থায়ন হয়েছে বিদেশি ঋণে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সামিট গ্রুপের কোনো পাওয়ার প্লান্টে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বরিশাল প্লান্টেও আশাকরি কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে কেন্দ্রটি নির্মাণ করায় পরিবেশ দূষণের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা হয়েছে। পরিবেশের জন্য বিদ্যুত্ প্লান্ট তেমন ঝুঁকিপূর্ণ হবে না বলে মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, পাওয়ার প্লান্টের ধোঁয়া অপসারণের জন্য সু-উচ্চ জিকজাক চিমনি যুক্ত করা হয়েছে। বরিশালে বর্তমানে প্রায় দেড়শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে এখানকার গ্রাহকদের জন্য কখনোই ৭০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয় না। তাই নতুন নতুন এসব পাওয়ার প্লান্ট স্থানীয় বিদ্যুত্ সংকট মোকাবিলায় কীভাবে ভূমিকা রাখবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সামিট পাওয়ারের কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা ঢাকায় বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন। যেসব এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে সেসব এলাকায় বিদ্যুত্ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত বলে সামিট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ মনে করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সামিট কোম্পানি লিমিটেড’র ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ খান ও পরিচালক মিসেস আঞ্জুমান আজিজ খানসহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।