ঘরে ঘরে ডায়রিয়া সর্দিকাশি-জ্বর নিউমোনিয়া

স্মরণকালের ভয়াবহ তাপদাহ চলছে এখন দেশে। আর এই প্রচণ্ড গরমে প্রতিদিনই অসুস্থ হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। হাসপাতালগুলোতে সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি রোগী আসছে ডায়রিয়া, সর্দিকাশি, নিউমোনিয়া, হাম, জ্বরসহ নানা রোগ নিয়ে। প্রতিটি ঘরেই এখন চলছে এইসব রোগের প্রকোপ।
 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, এই গরমে রাস্তার পাশের খাবার খাওয়া যাবে না। বাড়িতে খাবার খাওয়া উচিত। তবে খাবার খেতে হবে গরম গরম। রান্নার কয়েক ঘণ্টা পর সেটা না খাওয়াই ভালো। ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে গরম করে খাওয়া উচিত। ঠাণ্ডা খাবার খেলে ডায়রিয়া হতে পারে। এই গরমে রোগীদের পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতা দেখা দেয়। পরে এতে কিডনি আক্রান্ত হয়। তাপদাহ না কমা পর্যন্ত প্রচুর পানি, স্যালাইন, লেবুর সরবত খেতে হবে। বিশুদ্ধ পানি খেতে হবে। ওয়াসার লাইনের পানি খাওয়া যাবে না।
 
রাজধানীর মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদারাময় কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) প্রধান ডা. আজহারুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। লবণ কমে যায়। এ সময় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দেয়। তিনি সবাইকে খাওয়ার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে হাত দোয়ার পরামর্শ দেন। ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, নিউমোনিয়া রোগ নিয়ে রোগীরা আসছে। প্রতিদিনই প্রচুর রোগী আসছে। সবচেয়ে বেশি রোগী আসছে যাত্রাবাড়ি, বাড্ডা, মিরপুর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগসহ পুরনো ঢাকা থেকে। ডায়রিয়া রোগই সবচেয়ে বেশি দেখা দিচ্ছে। রাস্তার পাশের কোনো ধরনের সরবত পান না করার পরামর্শ তারও।
 
রাজধানীর শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মঞ্জুর হোসেন বলেন, হাসপাতালে এখন আগের চেয়ে শিশুরা অনেক বেশি আসছে। তিনি বলেন, শিশুদের শরীর ঘামে ভিজে গেলে মুছে দিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় শিশু ঘেমে যেতে পারে। এদিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। ঘাম বুকে বসে গিয়ে ঠাণ্ডা লেগে শিশু অসুস্থ হতে পারে। শিশুদের, এমনকি বড়দেরও গরমে ঢিলেঢালা সূতি কাপড়ের পোশাক পরতে হবে। রোদে যাওয়া যাবে না। শ্রমিকদেরও কাজের সময় ঢিলেঢালা কাপড় পরে কাজে যেতে হবে। কারো জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেতে হবে। তাতে ঠিক না হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। সবশেষে খাওয়ার আগে অবশ্যই হাত ভালো করে ধুতে হবে।