টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দর্জিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে নিহত দর্জি নিখিল চন্দ্র জোয়ারদারের স্ত্রী আরতি জোয়ারদার ও পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দুটি করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় এক জামায়াত নেতাসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (উত্তর) মোহাম্মদ আসলাম খান জানিয়েছেন।
আটক তিনজন হলেন— দৈনিক ইনকিলাবের স্থানীয় সংবাদদাতা, আলমনগর নগর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম মারুফি, উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাদশা, বিএনপি কর্মী বীরনলহরা গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের ছেলে ঝন্টু মিয়া এবং ভূয়াপুর উপজেলার বীরহাটি গ্রামের আশিক। আশিককে পুলিশের স্টিকারযুক্ত একটি নম্বর বিহীন মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়।
গোপালপুর থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, 'মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।'
শনিবার সকালে গোপালপুর পৌর এলাকার ডুবাইল বাজারে দর্জি নিখিলকে (৫০) লোকজনের সামনেই কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এলাকাবাসীর ধারণা, নিখিল উগ্রপন্থিদের হাতে খুন হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিখিল বাড়ির নিকটস্থ নিজ টেইলার্সে বসে পোশাক নির্মাণের কাজ করছিলেন। এ সময়ে পূর্বদিক থেকে মোটরসাইকেলে করে তিন যুবক টেইলার্সের সামনে এসে নিখিলকে বাইরে আসতে বলে। তাদের কাছাকাছি আসতেই মোটরসাইকেল আরোহী অপর দুই যুবক ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে তাকে কোপাতে থাকে। যুবকরা তার বুকে, ঘাড়ে ও মাথায় ৭/৮টি কোপ দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলে করে সূতিকালিবাড়ির দিকে চলে যায়। এ সময় তারা একটি ব্যাগ ফেলে যায়। যার ভিতরে ৪/৫টি ককটেল রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, দুই বছর আগে মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে অপদস্ত করে। পরে পুলিশ নিখিলকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। তিন মাস জেলহাজতে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আসেন নিখিল।
ধর্ম অবমাননার দায়ে করা ওই মামলার বাদী দৈনিক ইনকিলাবের গোপালপুর সংবাদদাতা জানান, নিখিল অনুতাপ প্রকাশ করায় এবং ডুবাইল গ্রামের কয়েকজন মুরুব্বীর অনুরোধে তিনি ছয় মাস আগে আদালত থেকে মামলা তুলে নেন।
গোপালপুর থানার ওসি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘উগ্রপন্থিদের দ্বারাই নিখিল খুন হয়েছে তা নিশ্চিত করে এখনি বলা যাচ্ছে না। তদন্তে আরো একটি পারিবারিক বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে।’