হত্যা ও ধর্ষণবিরোধী পথনাটক

 
ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে মানবিক মূল্যবোধ। বিস্তার ঘটছে সামাজিক অবক্ষয়ের। সেই সূত্রে বেড়ে চলেছে হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ। এই অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সংস্কৃতির আশ্রয়ে প্রতিবাদী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ। হত্যা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে নাট্য অভিযাত্রায় নির্মিত হয়েছে পথনাটক ‘শিকারী’। 
 
নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয় গতকাল শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। মান্নান হীরা রচিত ও নাসিরউদ্দীন ইউসুফ নির্দেশিত প্রযোজনাটিতে অভিনয় করেছেন ঢাকার নাট্যচর্চায় নিবেদিত বিভিন্ন দলের নাট্যকর্মী।
 
তপ্ত দুপুর শেষে বৈশাখী বিকালে বকুলতলার সামনের ধূলিধূসর উঠোনটি হয়ে ওঠে নাট্যমঞ্চ। পেছনে দৃশ্যমান  নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু, কল্পনা চাকমা ও পূর্ণিমা রানি শীলের ছবিগুলো যেন কথা বলে ওঠে। সাজানো প্রতিকৃতিগুলোর  ভেতর থেকে উচ্চারিত হয় ধর্ষণ, হত্যা ও অপহরণের বিচারের দাবি। নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকার তিন নারীর পাশে মাদার তেরেসার ছবিতে বিপন্ন মানবতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয় মানবতারই জয়গান। এরই মাঝে বেজে ওঠে বাঁশির সুর ও  ড্রামের বাজনা। বাদ্যযন্ত্রের সামনে এবং ডানে-বামে আসন করে নেন কুশীলবরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই নারী শিল্পীরা নাচের সঙ্গে গেয়ে ওঠে ‘ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা ...।’ নাচের মাঝেই আবির্ভূত হয় মানুষরূপী হায়েনার দল। পুরুষ শিল্পীরা ধারণ করেন নারী ধর্ষণকারী খেলোয়াড়ের পরিচয়। ধর্ষণের অভিপ্রায়ে তারা খুঁজতে থাকে শিকার। ৬ থেকে ৬০ বছরের শিশু-কিশোরী, তরুণী, যুবতী, পরিণত নারী কিংবা বৃদ্ধা—যে কেউ হতে পারে ধর্ষকদের শিকার। নৃত্যরত নারী অথবা হিজাবে আবৃত তরুণী কেউই রেহাই পায় না শিকারীদের কবল থেকে।
 
পথনাটকটির  বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঙ্গীতা, লিটা, জুঁই, ঋতু, প্রিয়ন্তী, শোভন, ফুয়াদ, মাসুদ, শরীফ, সৌদ, কামাল, সম্রাট, আসাদ ও ফয়সাল।
 
পথনাটকটি উদ্বোধনী মঞ্চায়ন শেষে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক আবদুস সালাম, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। এছাড়াও প্রযোজনাটি প্রসঙ্গে কথা বলেন, নির্দেশক নাসিরউদ্দীন ইউসুফ ও নাট্যকার মান্নান হীরা। সঞ্চালনা করেন পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মেদ গিয়াস।
 
গানে কবিতায় শ্রমজীবী মানুষদের জয়গান
মহান মে দিবসের প্রাক্কালে গতকাল শনিবার গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। গান ও আবৃত্তির মধ্যদিয়ে শ্রমজীবী মানুষের জয়গান ধ্বনিত হয় এ অনুষ্ঠানে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা স্তম্ভে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানমালার শুরুতেই ছিল আলোচনা সভা। প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী। আলোচনায় অংশ নেন—সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, নাট্যজন ঝুনা চৌধুরী, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর।
 
জাতীয় জাদুঘর ও রবীন্দ্র একাডেমি :রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুস্মীতা পাত্রের রবীন্দ্রসঙ্গীত সন্ধ্যা। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জাতীয় জাদুঘর ও রবীন্দ্র একাডেমি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন জাতীয় জাদুঘরের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও রবীন্দ্র একাডেমির সভাপতি এম আজিজুর রহমান।
 
‘নতুন চলচ্চিত্র নতুন নির্মাতা চলচ্চিত্র উৎসব’:  ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি ও শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত দেশের চলচ্চিত্রের বছরব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক উত্সব ‘নতুন চলচ্চিত্র নতুন নির্মাতা চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৫-২০১৬’। শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে উত্সবের সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উত্সবের ৩টি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকে পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র বিভাগে জহির রায়হান শ্রেষ্ঠ কাহিনীচিত্র পুরস্কার, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র বিভাগে আলমগীর কবির শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে  বাদল রহমান শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।