দুর্দিনে দিশেহারা মাইক্রোম্যাক্স

বছরখানেক আগে ভারতে স্মার্টফোনের বাজারে নির্ভরযোগ্য একটি নাম হয়ে উঠেছিল মাইক্রোম্যাক্স। এখন নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। বাজার দখল নেমেছে অর্ধেকে। শুরুর সময়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই এখন আর নেই মাইক্রোম্যাক্সের সঙ্গে। টালমাটাল অবস্থা কাটাতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্ব দিচ্ছে দেশের বাইরের বাজারে।
 
বিশ্বে দ্রুতবর্ধনশীল স্মার্টফোন বাজারের অন্যতম ভারত। গত বছর দেশটির হ্যান্ডসেট আমদানি ২৯ শতাংশ বেড়ে পৌঁছে ১০ কোটি ৩০ লাখ ইউনিটে। স্মার্টফোনের চাহিদার দ্রুতবর্ধনশীলতায় আগ্রহী হয়ে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে উত্পাদনে। এক্ষেত্রে প্রথম সারিতে ছিল মাইক্রোম্যাক্স। কিন্তু স্যামসাং ও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির জন্য। এ অবস্থায় ভারতীয় হ্যান্ডসেট উত্পাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসা কৌশল নিয়ে আবারো নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
 
নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চের বিশেষজ্ঞ তরুণ পাঠক বলেন, চীন ও ভারতের সেলফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা এখন প্রায় একই রকম। আগামী বছর মাইক্রোম্যাক্সসহ অন্য দেশী ব্র্যান্ডগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা আরো জোরদার হয়ে উঠবে।
 
২০০০ সালে চারজনের অংশীদারিত্বে শুরু হয় মাইক্রোম্যাক্সের যাত্রা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ফোন বিক্রির জন্য প্রথম বাজারে আসে ২০০৮ সালে। ২০০০-০৮ মধ্যবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কুলপ্যাড, জিওনি, অপ্পোর মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে বাজার তৈরিতে সক্ষম হয়। এর পর গত বছর ৪০টিরও বেশি নতুন মডেলের স্মার্টফোন উন্মোচন করে মাইক্রোম্যাক্স। ২০১৪ সাল থেকে স্যামসাংয়ের আধিপত্য বাড়তে শুরু করে উল্লেখযোগ্য হারে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানটিকে টেক্কা দিতে মাইক্রোম্যাক্স ওই সময় দেশের বাইরে থেকে ব্যবস্থাপক আনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য। কিন্তু নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতাদের দ্বন্দ্বে তহবিল প্রসার কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে সম্প্রতি জানিয়েছেন মাইক্রোম্যক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিকাশ জেইন।
 
তিনি আরো জানান, গত মে মাসে মাইক্রোম্যাক্সের ২০ শতাংশ স্টক ১২০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণের কথা ছিল শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবার। কিন্তু পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা না থাকায় অধিগ্রহণ থেকে পরবর্তীতে সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি। আলিবাবা এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাইক্রোম্যাক্সের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বেঙ্গালুরুতে ৮০-৯০ কর্মী নিয়োগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোনো রকম আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠাতাদের আগ্রহও কম ছিল। এক্সিকিউটিভরাও মাইক্রোম্যাক্স ছাড়ছেন। নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ পদত্যাগ করেন। গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন প্রধান নির্বাহী বিনীত তানেজা। ২০১৪ সালে প্রধান নির্বাহীর পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল তাকে।
 
শুধু মাইক্রোম্যাক্স নয়, ধুঁকছে ভারতের গোটা স্মার্টফোন শিল্প। কুলপ্যাড, অপ্পোর মতো চীনা হ্যান্ডসেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময়ই গুরুত্ব দেয় ভারতের বাজারকে। স্যামসাংও সাশ্রয়ী স্মার্টফোন উত্পাদন করছে ভারতের বাজার লক্ষ্য করে। সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে মাইক্রোম্যাক্স। এজন্য স্মার্টফোন ব্যবসার পাশাপাশি শুরু করতে চাইছে টেলিভিশন ও ট্যাবলেট উত্পাদন। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজি অ্যানালাইটিকসের নির্বাহী পরিচালক নেইল মসটনের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোম্যাক্সের এখন প্রয়োজন বহুমুখিতা। স্মার্টফোনের সঙ্গে অন্য পণ্য উত্পাদনে যাওয়া উচিত প্রতিষ্ঠানটির। এটিই উত্তরণের পথ।