পিরোজপুরের জিয়ানগরে প্রাচীন আমলের কয়েকটি ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার উপজেলার বালিপাড়ার সাউথখালী গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে রমিজ হাওলাদারের (৩৫) কাছ থেকে প্রাচীন আমলের ছয়টি ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে সাউথখালী গ্রামের অ্যাডভোকেট হুমায়ুন খানের বাড়ির পুরাতন ঘরের সংস্কার কাজ চলছিল। এসময় ঐ ঘরের মেঝে খোড়ার সময় নির্মানণ শ্রমিক সোহেল, সবুজ ও কবির মাটির নিচ থেকে একটি মাটির পাতিল উদ্ধার করে। যার মধ্যে অনেক গুপ্তধন লুকানো ছিল। এসময় ঐ বাড়ির দেখভালের দায়িত্বে থাকা রমিজ হাওলাদার পাতিলটির মধ্যে থাকা সকল ধাতব মুদ্রাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র তার বাসস্থানে নিয়ে যায়। এ নিয়ে নির্মান শ্রমিকদের সাথে রমিজের বাক বিতন্ডা সৃষ্টি হলে বিষয়টি লোক মুখে ছড়িয়ে পড়ে। গুপ্তধন উদ্ধারের খবর থানায় জানলে মঙ্গলবার রমিজের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। পরে রমিজ ঐ বাড়ির মুল মালিক হুমায়ুন খানের হাতে ছয়টি ধাতব মূদ্রা তুলে দেয়।
উদ্ধারকৃত মুদ্রা ছয়টি হুমায়ুন খান মঙ্গলবার বিকালে ইন্দুরকানী থানায় হস্তান্তর করেন। ঐদিনেই বিষয়টি তদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ইন্দুরকানী থানার উপ পরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত মুদ্রাগুলিতে কোন সাল উল্লেখ করা নেই। আরবি ও ফারসিতে কিছু লেখা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এগুলো প্রাচীন আমলের ধাতব মুদ্রা।
খান বংশের স্থানীয় বাসিন্দা জামাল খান জানান, হুমায়ুন খান ফরিদপুরের রাজা খানের বংশধর। প্রায় ২০০ বছর পূর্বে সাউথখালীতে হুমায়ুন খানের পূর্ব পুরুষেরা আবাসস্থল গড়ে তোলেন। সে সময় অনেক ধন সম্পদের মালিক ছিলেন তারা। তাদের বাড়িতে স্বর্ণের তৈরি কুমড়াসহ বিভিন্ন মূল্যবান ধনরত্ন মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
ইন্দুরকানী থানার ওসি কে,এম, মিজানুল হক জানায়, রমিজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। বিষয়টির তদন্ত চলছে।