রংপুর জেলার কৃষকগন চলতি মৌসুমে আঁশবিহীন, মাংসল ও সুমিষ্ট স্বাদের স্থানীয় জাতের হাড়িভাঙ্গা আমের ভাল ফলনের আশা করছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে টানা তিন সপ্তাহের অধিক সময়ের খরায় হাড়িভাঙ্গা আমের কিছুসংখ্যক গুঁটি ঝড়ে পড়ে। তবে বুধবার সকালের মাঝারী বর্ষণের ফলে এখনও গাছে রয়ে যাওয়া প্রচুর পরিমানে কচি আমগুলো দ্রুত বেড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি নাগাদ এই আম সংগ্রহ শুরু হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খন্দকার মো: মেজবাহুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক খরার পর বুধবার সকালে রংপুরে ২০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে করে তাপমাত্রা কমেছে এবং বাতাসে আদ্রতার পরিমান বৃৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অনুকূল আবহাওয়া আগামী দু'মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে জেলায় এবার এই অভিজাত হাড়িভাঙ্গা জাতের আমের আশানুরূপ ভাল ফলন পাওয়া যাবে।
মেজবাহুল আরও জানান, এপ্রিল থেকে নিয়মিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় স্থানীয় জাতের ভালো এই আমের উচ্চ ফলনে কিছুটা সংশয় দেখা দেয়। কিন্তু, বুধবারের বৃষ্টিপাত এই জাতের আমের ফলনে ব্যাপক সহায়ক হয়েছে। রংপুরসহ এই বিভাগের সর্বত্রই এখন বানিজ্যিক ভিত্তিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশে ও বিদেশে এ আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, রংপুর জেলায় এবার ছয় হাজার দু'শ ৫০ জনের বেশী কৃষক ও আগ্রহী লোক ক্ষুদ্র, মধ্যম ও বড় ধরনের চার হাজার দু'শ ৫০ টির বেশী বাগানে আম চাষ করেছে। জেলায় গত বছর ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের ২১ হাজার টন আম উৎপাদনের পর চলতি মৌসুমে পাঁচ হাজার আট'শ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গোটা রংপুর বিভাগের পাশাপাশি জেলায় আম চাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে কমপক্ষে গতবছরের ন্যায় হাড়িভাঙ্গা আম উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন।
রংপুর সিটি মার্কেটের আম ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান জানান, আগামী জুন মাস থেকে শুরু হয়ে জুলাই পর্যন্ত হাড়িভাঙ্গা আম মাড়াই ও সংগ্রহ চলবে। মাড়াইকালীন মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি হাড়িভাঙ্গা আম ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় কেনা-বেচা হলেও সংগ্রহকালীন সময়ের শেষ দিকে প্রতি কেজির দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।