জীবনযাপনে বইয়ের ‘চর্চা’

 খালেদ আহমেদ

বইয়ের ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠার ‘চর্চা’র যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে কাঁটাবন এলাকার কনকর্ড মার্কেটের ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে। পরে ১০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি মোহাম্মদপুরে চলে আসে বড় পরিসরে। তারা নিয়মিত দেশি ও বিদেশি বই সংগ্রহ করে। তাদের মূল্য লক্ষ্য বাছাইকৃত বইয়ের পাশাপাশি দুর্লভ বই সংগ্রহ করা। এছাড়াও চর্চা অনলাইনে কোনো প্রকার অ্যাডভান্স পেমেন্ট ছাড়া বই অর্ডার নিয়ে থাকে। ২০১৭ থেকে নিজেদের সিগনেচার মেলা ‘বই গলি’ আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। সারা বছর চর্চার বইয়ে কমিশন থাকে। তবে বই গলি মেলায় নানা রকম ডিস্কাউন্ট ও অফার থাকে। এছাড়াও বই গলি মেলায় নানা রকম অতিরিক্ত আয়োজন রাখার চেষ্টা করে। পাঠক ও বইয়ের মধ্যে একটা মজবুত সম্পর্ক তৈরি করার লক্ষ্যে চর্চার নানা উদ্যোগ রয়েছে। যেমন—এখানে পাঠক যতক্ষণ ইচ্ছা যেকোনো বই শেলফ থেকে নিয়ে পড়তে পারেন। যার জন্য কোনো মেম্বারশিপের প্রয়োজন পড়ে না। প্রতিষ্ঠানটির শুরুর গল্পটা এমন ছিল বলে জানিয়েছেন পরিচালক সাবরিনা ইসলাম শিফা। চর্চা কী কী কাজ করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একই সাথে বই খুচরা বিক্রি ও প্রকাশনা ব্যবসা করছি আমরা। এক বছরে বেশকিছু বই প্রকাশনার সাথে যুক্ত ছিলাম। এ পর্যন্ত ১৮টি বই প্রকাশ করেছি। সামনে আরও কিছু ভালো বই আসবে বলে আশা করছি। খুব শিগগিরই পাঠকেরা চর্চায় এলে চা, কফি ও হালকা নাস্তার ব্যবস্থা পাবেন। এই আউটলেটের আয়তন সম্ভবত ১১০০ স্কয়ার ফিটের মতো। যখন আমরা এটা ভাড়া নিয়েছিলাম তখন এখানে চারটা রুম ছিল। কিন্তু আমরা পরে কিছু দেয়াল ভেঙে বড় জায়গা তৈরি করে নিয়েছি। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বইপ্রেমীরা কোনো প্রকার অগ্রিম টাকা দেওয়া ছাড়াই বই অর্ডার করতে পারেন। বই অর্ডারকারীর কাছে ১০ দিনের মধ্যেই বই পৌঁছে দিয়ে টাকা গ্রহণ করি। আমরা মনে করি, এটা চর্চার অনেক বড় একটা সেক্টর। আমাদের অনলাইনের পাঠকের সংখ্যা অনেক বেশি। এছাড়াও চর্চা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই দেশের বাইরে থেকে ইমপোর্ট করে বিক্রি করে থাকি। ভারতের কলকাতা, দিল্লি, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে অর্ডার মোতাবেক বই ইমপোর্ট করে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দিয়ে থাকি। আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি বই সম্পর্কিত সব ধরনের কাজই করে থাকে। এখানে টুকটাক লোকজন আসে। বই কিনছে, বই পড়ছে। কিছু সংখ্যক পাঠক প্রায়ই এসে বই পড়ছে, আড্ডা দিচ্ছে এবং একটা বড় সময় এখানে অতিবাহিত করছে।’ বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করেন কিভাবে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘অন্য সব বইয়ের দোকানের মতো আমাদেরও বইয়ের দাম নির্ধারণ করা থাকে, কিন্তু চর্চা যেটা করে প্রতিটা বইয়ের মূল্যের ওপর বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে। আমরা সারা বছরই ৫০% মূল্য ছাড়ের কিছু বই রাখি। এছাড়াও ১০% থেকে ২০% মূল্য ছাড়ের বই সব সময়ই থাকে, যা মার্কেটের সবার থেকে একটু আলাদা।’ চর্চা নিয়ে আগামীর ভাবনা জানতে চাইলে সাবরিনা ইসলাম বলেন, ‘এর আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাসটাকে তৈরি করা। আমাদের এখানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় দশ থেকে বার হাজার বই আছে। আমাদের সবচেয়ে ভালো দিক হলো প্রতিমাসে আমাদের প্রতিষ্ঠানে পাঠকদের চাহিদা মোতাবেক নতুন বই আসছে। চর্চার গ্রাহক এখন সবখানে, যেমন— বারিধারা, মতিঝিল, গুলশান, উত্তরা। এমনকি দেশের বাইরেও চর্চার গ্রাহক আছে।  নতুন বলতে এখন তো আমরা ফ্রিতে পাঠকদের চা-কফি অফার করছি। কিন্তু কিছুদিন পর আমরা এখানে চা-কফি এবং বিভিন্ন সময়ের নাস্তার ব্যবস্থা রাখব যা পাঠকদের ক্রয় করতে হবে টাকার বিনিময়ে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা আরও কিছু নতুন আউটলেট চালু করব।’

ছবি তম্বয় মির্জা

এ ক  ন জ রে

চর্চা

প্রতিষ্ঠাকাল :২০১০

প্রতিষ্ঠানের ধরন :অফলাইন ও অনলাইনে খুচরা বিক্রি, পরিবেশক, প্রকাশক, আমদানীকারক এবং পুস্তক সরবরাহকারী।

পরিচালক :সাব্বির বিন শামস, সাবরিনা ইসলাম শিফা

ঠিকানা :১০৭, শেরশাহ সূরী রোড, মোহাম্মাদপুর, ঢাকা।

 

সাবরিনা ইসলাম শিফা

পরিচালক, চর্চা

 

পাঠক ও বইয়ের মধ্যে একটা মজবুত সম্পর্ক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে চর্চার যাত্রা শুরু। কেননা বই পড়ার মধ্য দিয়েই মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। আর মানুষের জীবনে জ্ঞান এমন এক অর্জন, যা ধন-সম্পদের চেয়েও মূল্যবান। অথচ এই অর্জন কেউ কেড়ে নিতে বা লুটে নিতে পারে না। মজার ব্যাপার হলো—এই জ্ঞান বিলিয়ে দিলে কমে না, বরং বাড়ে।