চতুর্থ ধাপে ৭২৫ ইউপি

বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ

আতঙ্ক, উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠার মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ৭২৫ ইউপিতে ভোটগ্রহণ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভোটের সব ধরণের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটকে ঘিরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। মাঠে নেমেছে পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ সব ধরনের নির্বাচনী সামগ্রী বিশেষ নিরাপত্তায় আজই পৌঁছে যাবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ করা হবে। 
 
এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম তিন ধাপের তুলনায় এ ধাপে সুন্দর ভোট হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ বলেছেন, অপরাধী যে পর্যায়ের হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তাদের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম শক্ত হাতে হ্যাল্ডেল করা হয়।
 
এদিকে ৭২৫ ইউপির মধ্যে ৩৩ ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। সবমিলিয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইউপি নির্বাচনে এখন পর্যন্ত চার ধাপে আওয়ামী লীগ মনোনীত ১৫০ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সংঘাত-সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৬৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ধাপে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী তিন হাজার ২৪৫ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী এক হাজার ৫২২ জন। এই ধাপে আওয়ামী লীগ ৭২৪, বিএনপি ৬১৯, জাতীয় পার্টি-জাপা ১৫৬, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৫৪ ও  জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৪২টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিয়েছে।
 
এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। একইসঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নানা অনিয়ম ঠেকাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও অপরাধ তদারকিতে মাঠে থাকবেন। 
 
ইসি কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে মোবাইল ফোর্স ও প্রতি তিন ইউপির জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখা হয়েছে। অন্যদিকে প্রতি উপজেলায় ২টি করে র্যাবের মোবাইল টিম ও ১টি স্ট্রাইকিং টিম এবং প্রতি উপজেলায় ২ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল ও ১ প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকছে। বৃহস্পতিবার রাতেই সব ধরনের প্রচারণা শেষ হয়েছে। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের যেকোনো নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করার বিধান রয়েছেন। আগামী ৭ মে সকাল ৮টা থেকে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এর ৩২ ঘন্টা আগে অর্থাত্ ৫ মে মধ্যরাত ১২টার আগেই সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভোটের মাঠের সার্বিক নিরাপত্তায় যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। ভোটের দিনের পূর্ববর্তী রাত ১২টা থেকে গ্রহণের দিন মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বেবিটেক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পোসহ সবধরণের যান্ত্রিক যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী তিনদিন থেকে ভোটগ্রহণের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবত্ আছে। এছাড়া ভোটের দিনের পূর্ববর্তী রাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের দিন মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত সব ধরনের নৌ-যান ও স্পিটবোট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলা হয়েছে। তবে ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌযান বা জনগণ তথা ভোটারদের চলাচলের জন্য ক্ষুদ্র নৌযান চলাচল নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
 
বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ
 
নির্বাচনে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। স্বেচ্ছায় এলাকা না ছাড়লে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। 
 
উল্লেখ্য, শনিবার চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের পর পঞ্চমধাপে আগামী ২৮ মে ৭৩৩ ও ৬ষ্ঠ ধাপে ৪ জুন ৭২৪ ইউপিতে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। এর আগে গত ২২ মার্চ ৭২৫টি, ৩১ মার্চ ৬৩৯টি এবং ২৩ এপ্রিল ৬১৫টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।