প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনার মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানের জামিনের আবেদন মহানগর দায়রা আদালতও নাকচ করে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে ওই আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা।জামিন আবেদনের শুনানি করেন শফিক রেহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন মেজবাহ।দুই দফায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড শেষে শফিক রেহমান বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল এই সাংবাদিকের পাঁচদিন এবং গত ২২ এপ্রিল পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ১৬ এপ্রিল সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় এই মামলা হয়। ওই বছর আগস্টে মামলাটি তদন্ত শুরু করে ডিবি। মামলার এজাহারে শফিক রেহমান আসামি ছিল না। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরবর্তীতে তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পায়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পূর্বে যে কোনো সময় জাসাস সহ-সভাপতি মোহাম্মাদ উল্লাহ মামুন ও তার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারসহ আসামিরা পল্টনস্থ জাসাস কার্যালয়ে, নিউইয়ার্ক শহরে, যুক্তরাজ্যে ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে একত্রিত হয়ে পরস্পর যোগসাজসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী পুত্র বর্তমান তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণপূর্বক হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আসামি মোহাম্মাদ উল্লাহ মামুন ও বিএনপি, বিএনপি জোটভুক্ত নেতৃত্ব আসামি সিজারকে দায়িত্ব দেয়। ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে সিজারের ৪২ মাসের কারাদণ্ড হয়। শফিক রেহমানের অন্যতম আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদিন মেজবাহ জানিয়েছেন। তিনি প্রবীণ, আধুনিক ও সৃজনশীল সাংবাদিক। তিনি দৈনিক যায়যায়দিনের সাবেক সম্পাদক। তিনি অশীতিপর বয়স্ক মানুষ। আইনে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জামিনের বিশেষ সুযোগের কথা বলা আছে। জামিন পেলে তিনি পলাতক হবেন না, পালিয়ে যাওযার লোক তিনি নন। তিনি হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন, তার সাংস্কৃতিক মান হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আমিনুল ইসলাম বলেন, মামলাটি সাম্প্রতিক। আর আসামির হাজতবাস দীর্ঘ নয়। মামলার তদন্ত হচ্ছে এবং অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং এই মুহূর্তে তার জামিনের বিরোধিতা করছি। প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের তথ্য পেতে এক এফবিআই সদস্যকে ঘুষ দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এক বিএনপির নেতার ছেলের কারাদণ্ডের ঘটনায় ২০১৫ সালে একটি মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। ওই মামলায় গত ১৬ এপ্রিল শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
ফোকাস বাংলা।