‘সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান’ পদ পেয়ে ‘ঠাণ্ডা’ হওয়া রওশন এরশাদ পহেলা মে শ্রমিক পার্টির আলোচনায় যোগ দেয়ার পর এরশাদের আহ্বানে বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও গেছেন। সকালে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের এক পর্যায়ে নিজের ব্যস্ততার কথা বলে আগে চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান রওশন। এসময় এরশাদ তার হাত ধরে বলেন ‘নিঃসঙ্গ অন্ধকারে জেগে আছি/কোথায় ? ঊষার জ্যোতি কতদূর...’। জবাবে রওশনও রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করেন, ‘আজি এ প্রভাতে/ রবির কর কেমনে/ পশিল প্রাণের পর/কেমনে পশিল গুহার আঁধারে/ প্রভাতপাখির গান...’।
কবিতা আবৃত্তি শেষ করে চলে যেতে চান রওশন। এসময় উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে হাসতে-হাসতে এরশাদ বলেন ‘অন্ধকারে ছিলাম, তার (রওশনের) উপস্থিতিতে আলো জ্বলে ওঠেনি?’ নেতারা জবাব দেন ‘জ্বি স্যার, আলো জ্বলেছে।’ তখন এরশাদ বলেন ‘আর কোনো বিভেদ নেই। আমরা সবাই এক, হৃদয় এক, মন এক।’
১৪ মে অনুষ্ঠেয় জাপার কাউন্সিল সফল করার অনুরোধ জানিয়ে এরশাদ বলেন, ‘আমি আর বেশিদিন নেই। কাউন্সিল সফল করো, এটা আমার শেষ চাওয়া।’ কাউন্সিলের তহবিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নয় বছর ক্ষমতায় থাকাকালে কতজনকে কতভাবে সহায়তা করেছি। আজকে কা?উন্সিলের জন্য ভিক্ষুকের মত হাত পাততে হয়। লজ্জা করে। জানা গেছে, বৈঠকে কাউন্সিলের জন্য দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা এবং সংসদ সদস্যদের ১ লাখ টাকা করে চাঁদা ধার্য করা হয়েছে।
রওশন এরশাদ তার বক্তব্যে বলেন, পার্টি অফিসকে ঢেলে সাজাতে হবে। গ্রামের নেতা-কর্মীরা কিছুই পায় না। তারা অনেক কষ্টে দলকে ধরে রেখেছে। অনেকে জাপা ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।
এদিকে, রওশন এরশাদ গতকাল লা মেরিডিয়ান হোটেলে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল-মুবারক আল-হামাদ আল-সাবাহ’র সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিরোধী দলীয় নেতা এসময় বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি শ্রমিক নেয়ার অনুরোধ জানান।