উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে সিএনজিচালিত অনিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে আগামী সোমবার বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টার সড়ক পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।
শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ মুছা এ ঘোষণা দেন।
সড়ক পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ওই দিন যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, টেম্পো, অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের যান চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় চলাচল বন্ধ থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক মাসের মধ্যে অনিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেয়াসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। এক মাসের মধ্যে এসব দাবি না মানলে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও বিআরটিএ’র সার্কুলার মোতাবেক অনিবন্ধিত অটোরিকশার নিবন্ধন প্রদান, পুলিশের টোকেন বাণিজ্য, রিকুইজেশন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ করা, কথায় কথায় মামলা দেয়া ও টাকার জন্য শারীরিক নির্যাতন বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মূছা। এতে বলা হয়, ধর্মঘটের অংশ হিসেবে সোমবার চট্টগ্রাম জেলা ও শহর, কক্সবাজার জেলা এবং তিন পার্বত্য জেলায় সকল ধরণের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১ মাসের মধ্যে অনিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা নিবন্ধন প্রদানসহ ৬ দফা কার্যকরের দাবি জানানো হয়।
ছয় দফার মধ্যে রয়েছে অনিবন্ধিত সিএনজি চলাচলে বাধা না দেয়া, বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, রায় অনুযায়ী অনিবন্ধিত ৩ হাজার ১১টি গাড়ির সপ্তাহব্যাপী আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান, অবিলম্বে বিনা শর্তে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং টো করা সিএনজি অটোরিকশা ফেরত দেয়া। এসব দাবি পূরণ করা না হলে লাগাতর ধর্মঘট আহ্বান করার ঘোষণাও দেয়া হয়।
পুলিশের প্রতি অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুলিশের নির্যাতন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বর্তমানে যে অবস্থায় চলে গেছে, তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় গাড়ি চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ধর্মঘট আহ্বান ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।
ফোকাস বাংলা।