অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, আসছে বাজেট (২০১৬-১৭) অবশ্যই দরিদ্র বান্ধব হবে। সরকার বাস্তবেই দরিদ্রদের কল্যাণে কাজ করে চলেছে। তিনি বলেন, বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়বে। তবে কত বাড়বে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দরিদ্রবান্ধব, বাস্তবায়নযোগ্য, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বাজেট চাই’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অর্থপ্রতিমন্ত্রী এসময় আরো বলেন, বাজেট নিয়ে খোলামেলা অনেক আলোচনা হয়। আমরা দুর্নীতির চেয়ে অপচয়ে বেশি ভয় পাই। বাজেট বরাদ্দের অপচয় রোধ করার উপায় খুঁজে বের করা জরুরি।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাসের সভাপতি কর্নেল (অব.) শওকত আলী, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট সম্পর্কিত সংসদীয় ককাসের সহ-সভাপতি কাজী রোজী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, আয়োজক সংগঠনের জাতীয় পরিষদ সদস্য এম এ কাদের ও মঞ্জু রাণী প্রামাণিক। সভাপতিত্ব করেন সুপ্রর চেয়ারম্যান আহমেদ স্বপন মাহমুদ।
আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, বাজেট কেন্দ্রীয়ভাবে প্রণয়ন, বরাদ্দ, নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। কেন্দ্র থেকে অনেক ক্ষেত্রেই আঞ্চলিক প্রয়োজনের পরিমাণ ও প্রকৃতি বোঝা যায় না। জেলা-উপজেলার প্রকৃতি, জনসংখ্যা ও অন্য নির্দেশক এক নয়। তাই বাজেট বরাদ্দ ও এলাকাভিত্তিক বণ্টনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। সভায় আসন্ন বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য ও সেবাপণ্যে ভ্যাটের হার কমিয়ে আনা, ভ্যাট ও কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা, প্রত্যক্ষ কর নির্ভর বাজেট প্রণয়ন করা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে স্থানীয়ভাবে অর্জিত খাজনা বা করের একটি অংশ সরাসরি স্থানীয় উন্নয়নে বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানানো হয়। বাজেটে স্থানীয় সরকারকে পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রতি জেলার জন্য একটি থোক বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়।
বাজেট প্রণয়নে সকলের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাজেটের খসড়া ন্যূনতম ৩ মাস পূর্বে জনসম্মুখে উন্মুক্ত করা ও জনমত গ্রহণ করা, সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণে চাহিদাভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ, সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, টেকসই কৃষি উন্নয়নে চাহিদাভিত্তিক বাজেট বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।