আশা ফিরতে শুরু করেছে শেয়ারবাজারে

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের লেনদেনে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক বেড়েছে আড়াই শতাংশেরও বেশি। আর লেনদেন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ। দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্রড ইনডেক্স সিএসসিএক্স ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার পয়েন্টের ওপরে এসেছে। প্রায় একই হারে বেড়েছে নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক সিএসই ৩০।
 
ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের ফলে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিক্রয় চাপ সৃষ্টি হবে এমন আশঙ্কার পর একটানা কমতে থাকে শেয়ারবাজারের সূচক। কমতে থাকে লেনদেনের পরিমাণ। বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় দরপতন শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর গত সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ‘নীতি সহায়তা’র ব্যাখ্যা দেয়। এতে শেয়ারবাজারে ব্যাংকিং খাতের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের জন্য বাজারে নতুন করে শেয়ার বিক্রির চাপ পড়বে না বলে আশ্বস্ত হন বিনিয়োগকারীরা। পরদিন সূচক প্রায় আড়াই শতাংশ হারে বাড়ে। বুধবার সামান্য সংশোধনের পর বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির পাশাপাশি সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। গেল সপ্তাহে চার কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ  বেড়ে ৪ হাজার ৩৪০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অন্যদিকে স্টক এক্সচেঞ্জের ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়। এদিকে লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে দৈনিক লেনদেনের গড় আগের সপ্তাহের তুলনায় ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়েছে। গেল সপ্তাহে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৪৩৬ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫৭ টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৫৭ কোটি টাকারও নিচে।
 
খাতওয়ারি লেনদেনে আগের সপ্তাহের মতো বিদ্যুত-জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর প্রাধান্য ছিল গেল সপ্তাহেও। গেল সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৬ শতাংশ ছিল এ খাতের কোম্পানিগুলোকে ঘিরে। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে ছিল ওষুধ-রসায়ন ও প্রকৌশল খাত, উভয়ই মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশ। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে আবার ৩ লাখ কোটি টাকার ঘরে উন্নীত হয়।