গাইবান্ধায় নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যাংক কর্মচারী নিহত

 
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নওশার (ঘোড়া) কর্মী-সমর্থকদের সাথে পুলিশ, বিজিপি ও আনসার বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক ব্যাংক কর্মচারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ইউএনও, এএসপি ও ওসিসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার ধাপেরহাট বন্দরের ফাইভ স্টার মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
 
নিহত লেবু মন্ডল (৩২) স্থানীয় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (নৈশ প্রহরী) ও পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা জামদানি গ্রামের আবদুল কাদের মন্ডলের ছেলে।
 
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ধাপেরহাট ইউনিয়নের ১২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্রের ফলাফল স্থানীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু অপর দুইটি মধ্য নিজপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আরাজী ছত্রগাছা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা না করে উপজেলা সদরে কন্টোল রুমে নিয়ে আসে। এতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নওশার কর্মী-সমর্থকরা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে। খবর পেয়ে রাত নয়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু রায়হান দোলনের নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ ও আনছারা সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় অবরোধকারীরা বিক্ষোভ করে পুলিশে দুইটি গাড়ি ভাংচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও গুলি  নিক্ষেপ করে। সেসময় মহাসড়কের পশ্চিম ধারে অবস্থিত স্থানীয় রাজশাহী কৃষি ব্যাংকের দোতলায় অবস্থানরত লেবু মন্ডল গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে মারা যান। এই ঘটনায় ইউএনও আবু রায়হান দোলন, এএসপি রবিউল ইসলাম, ওসি ফরহাদ ইমরুল কাওসারসহ বিক্ষোভকারী ও আইন শৃংখলা বাহিনীর  কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।
 
ওসি ফরহাদ ইমরুল কাওসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিক্ষোভকারীরা ইউএনও ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা করায় এই ঘটনা ঘটে।