শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে হাজার হাজার মানুষের ঢল

 
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে। রবিবার কবির স্মৃতিধন্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে রবীন্দ্র ভক্ত-অনুরাগীসহ দর্শক-শ্রোতার আগমনে কুঠিবাড়ি চত্বর মুখরিত হয়ে উঠে।
 
উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ।  বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন ও পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম। জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যে মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রহমান, সিভিল সার্জন ডাক্তার নাজমুল ইসলাম, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন,কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহা আক্তার, কবি আলম আরা জুঁই প্রমুখ।
 
বক্তারা বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মানবতাবাদী কবি। সাহিত্যের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় রবীন্দ্রনাথের প্রতিভার বিকাশ ছিল অভূতপূর্ব। শিলাইদহের কুঠিবাড়িসহ পূর্ববঙ্গের মাটিতেই বসেই কবি রবীন্দ্রনাথ কবিতা,গানসহ সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো রচনা করেছিলেন। কবির সাহিত্য চর্চায় ছায়াঘেরা নিভৃত শিলাইদহ গ্রামের কুঠিবাড়ির অবদান ছিল অপরিসীম।
 
সকালে প্রথম পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় রবীন্দ্র সঙ্গীতের জলসা। জেলার প্রায় ৪০টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পিদের পরিবেশনায় গান, কবিতা আবৃতি ও নাট্যানুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের কাছে দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠে। এছাড়া রবীন্দ্র জন্মবার্ষিকীতে কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত “টেগর লজ” এ পৌরসভার উদ্যোগে পৃথক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আণোয়ার আলী প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে “টেগর লজ” প্রাঙ্গনে  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
 
কবির জন্ম জয়ন্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার পাশাপাশি কুঠিবাড়ি চত্বরে বসে গ্রাম বাংলার চিরায়ত গ্রামীণ মেলা।
 
সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।