চরফ্যাশনে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি কামরুল ইসলাম কাজলকে চারদিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
তবে পুলিশ কাজলের বড় ভাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জামালকে গ্রেফতার করে গত শনিবার জেলহাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত কাজল গাঢাকা দিয়েছেন। তবে তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। নির্যাতনকারী কামরুল ইসলাম কাজল উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়াডের নজির মাঝিরহাট এলাকার মৃত নজির মাঝির ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, কামরুল ইসলাম কাজলের সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে পাশ্ববর্তী এলাকার এক গৃহবধূর প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। বিষয়টি ওই গৃহবধূর স্বামী টের পেলে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে কাজল তাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতেন।
নির্যাতিত গৃহবধূ বলেন, ‘বুধবার বিয়ের দাবি নিয়ে কাজলের বাড়ি গেলে কাজল ও তার পরিবারের লোকজন আমার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে তাকে বাড়ির পাশে একটি সুপারি গাছের সাথে বেঁধে কয়েক দফা মারধর করে ফেলে রাখে। গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
এলাকাবাসী জানায়, কাজল স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী। তাই বিষয়টি সবাই জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।
এদিকে ঘটনাটি একাধিক জাতীয় এবং আঞ্চলিক দৈনিকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজ বুকে প্রকাশ হলে কাজলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মু. এনামূল হক জানান, নির্যাতিত ওই নারী কামরুল ইসলাম কাজল ও তার ভাইসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পরপরই অনেকে গাঢাকা দিয়েছে।