সংবাদপত্র শিল্পে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি নোয়াবের

দেশের সংবাদপত্র শিল্পের কাগজ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। 
 
রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনায় উপস্থিত হয়ে তারা এ দাবি জানান। এ সময় নিউজপ্রিন্ট আমদানিকালে অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) বাতিল করা, কালি, প্লেট ও প্রিন্টিং ম্যাটেরিয়াল আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা, বিজ্ঞাপনের অগ্রিম আয়কর  (এআইটি) সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কর্তন না করাসহ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই সভায় নেয়াবের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 
নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, কাগজ আমদানিতে বর্তমানে শুল্ক ৫ শতাংশ। শুল্ককর মিলিয়ে প্রায় ২১ শতাংশ পরিশোধ করতে হচ্ছে। নিউজপ্রিন্টের অন্যান্য উপাদানের উপরও ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। এসব খাতে অর্থ ব্যয় করে পত্রিকা প্রকাশ দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত নিউজপ্রিন্টের মান পত্রিকা প্রকাশের উপযোগী নয়। ভারতসহ প্রতিবেশী একাধিক দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে দেশীয় নিউজপ্রিন্ট শিল্প থাকা সত্ত্বেও সংবাদপত্রের কাগজ আমদানিতে কোন শুল্ক নেই। 
 
সংগগঠনের সহ-সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, গত বছর সরকার সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই বিবেচনায় কাঁচামাল হিসেবে কাগজ আমদানিতে অন্যান্য শিল্পের ন্যায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অচিরেই সাংবাদিকদের নতুন ওয়েজবোর্ডের দাবি আসবে। আয় না হলে কোত্থেকে টাকা দেব? এ সময় সংবাদপত্র শিল্পের নানামুখী সমস্যা তুলে ধরে বলেন, সংবাদপত্র কোন লাভজনক শিল্প নয়। এটিকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করা দরকার। 
 
নোয়াবের অন্যতম সদস্য ও ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন এ শিল্পকে সহানুভূতির দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান। 
 
তিনি বলেন, এ শিল্পের সব মেশিনারি আমদানিনির্ভর। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সমস্যায় আছি। তবুও আমাদের ওপর এত প্রেসার কেন?
 
এনবিআর চেয়ারম্যান নোয়াবের এসব দাবি ও প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান।
 
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নোয়াবের সদস্য ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এএইচএম মোয়াজ্জেম হোসেন, ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর সম্পাদক এম শামসুর রহমান, বণিকবার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ প্রমুখ।