রাজধানীর মিরপুরে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১২ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে মিরপুর ১ নম্বরে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষে জড়িত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন: মনোয়ার হোসেন (৩০), শামিম হোসেন (৩২), জাকির হোসেন (২৮), আল-আমীন (২৭), হাবিব (২৫), কোরবান (২৫), আবুল কালাম (৩৪), রাফি (২০), সুজন (২০), শুভ (২০), সবুর আলী (২৪) ও ইব্রাহীম (২৭)। এছাড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন পুলিশের তিন সদস্য। তারা স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে প্রায় বিশ মিনিটে ধরে উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট ও রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর অঞ্চলের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদ বলেন, সকাল থেকে মিরপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ হরতালবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ করছিল। বেলা ১২টার দিকে ১ নম্বরের মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এসময় উভয় পক্ষের সমর্থকদের ছোড়া ছররা গুলিতে ১৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে বলে তিনি জানান।
তবে শাহআলী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন জুয়েল জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে দিয়ে তারা হরতাল বিরোধী মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় একটি গ্রুপ তাদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শটগান দিয়ে গুলি ছোড়ে। এ সময় আহত হন কমপক্ষে ৩০ জন।
এ ব্যাপারে বিকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো গ্রুপ নেই। আমার গ্রুপ আওয়ামী লীগ।’ তিনি বলেন, ‘আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাব। তাদের সঙ্গে কথা বললেই বুঝতে পারবেন হামলাকারী কারা।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হরতালবিরোধী মিছিল শেষে মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। ঠিক এসময় সন্ত্রাসীরা আমাদের সমর্থকদের উপর বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় আমার উপরও হামলা চালানো হয়। আমি ঘাড়ে, পিঠে ও পায়ে আঘাত পেয়েছি। তবে হামলাকারী কারা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি। তিনি আরো বলেন, পুলিশ রাবার বুলেট না ছুড়লে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতো।
শাহআলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন সন্ধ্যায় জানান, হামলার ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। কাউকে গ্রেফতার করাও হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে সংঘর্ষের সময় পুলিশ শটগান দিয়ে গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।