গরু শূন্য পুটখালী করিডোর, শতকোটি টাকা ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা

 
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করায় যশোরের বেনাপোলের পুটখালী গরু করিডোর গরু শূন্য হয়ে পড়েছে। ক’দিন আগেও এখানে ছিল জমজমাট গরুর হাট। গরু না আসার কারণে গরু ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হতে বসেছে। সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব।
 
দেশের সবচেয়ে বড় গরু করিডোর পুটখালী। প্রতি মাসে এ করিডোরে ভারত থেকে গরু আসতো প্রায় এক লাখ পিস। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হতো মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা। বর্তমানে বিএসএফ গরু আসা বন্ধ করে দেয়ায় এখন মাসে গরু আসে এক থেকে সর্বোচ্চ দেড় হাজার আর রাজস্ব আদায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। গরু না আসার কারণে ব্যবসায়ীরা এক দিকে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অন্যদিকে বেকার হয়েছে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক। গরু কেনার জন্য ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের হাতে পুটখালীর গরু হাটের সাথে সম্পর্কিত ব্যবসায়ীদের অগ্রিম দেয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকা আটকা পড়েছে ভারতীয় গরু ব্যবসায়িদের হাতে। এ কারণে নিঃস্ব হতে বসেছে দেশীয় গরু ব্যবসায়ীরা। এ টাকা আদৌও তারা ফেরত পাবে কিনা তা জানে না।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে পুটখালী গরু ব্যবসায়ীদের অনেকেই সীমান্তের ইছামতি নদীর ধারে বসে বিলাপ করছেন। পুটখালী  সীমান্তে ওপারে বিএসএফের নির্যাতন আর গুলির ভয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সাথে কোনো রকম যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা।
 
গত বছরের ১৫ মে এক গরু ব্যবসায়ী ভারতের আংরাইল নামক স্থানে মহাজনের নিকট গরুর খোঁজ আনতে গিয়ে তাকে লাশ হয়ে বাড়ী ফিরতে হয়েছে।
 

নাভারন শুল্ক আদায় গরু করিডোরের রাজস্ব কর্মকতা এবং গরুর হাটের লিজ গ্রহীতা নাসিম রেজা পিন্টু জানান, ভারত থেকে গরু আসা অনেক কমে গেছে। ফলে গরু থেকে পাওয়া প্রতি মাসে আদায়কৃত রাজস্ব ৫ কোটি টাকা থেকে নেমে এসেছে ২ থেকে ৫ লাখ টাকায়। পুটখালী সীমান্তের গরু ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছেন। এদের কেউ কেউ ব্যবসায়ী থেকে শ্রমিকের খাতায় নাম লেখাচ্ছে।