দারিদ্রের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে পরাস্ত হয়ে এখন ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছেন এক হতভাগ্য মুক্তিযোদ্ধা। নাম তাঁর মুরাদ আলী (৬৯)। পিতার নাম মৃত ওয়াজ আলী। বাড়ী কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের অঞ্জনগাছী গ্রামে।
জীবনবাজী রেখে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া সত্বেও দেশের অনেক অকুতোভয় বীরসেনানী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার এখনও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম ওঠেনি। সেই বঞ্চিত তালিকার একজন মুরাদ আলী।
জানা যায়, মুরাদ আলী ১৯৭১ সালে নিজ গ্রাম অঞ্জনগাছীর আজগর, পিয়ার, নূর হোসেন, ইনতাজ, ইয়াকুব, সাদেক, আবুল, আইনাল, মনছুর, শের আলীসহ আরো কয়েকজন টগবগে যুবক মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন তাঁরা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আনছার ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার তাবিবুর রহমান’র নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
দেশ স্বাধীন হলে সহযোদ্ধাদের অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থান পেলেও বাদ পড়েন মুরাদ আলী। নাম তালিকাভুক্ত করতে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দপ্তরে অসংখ্যবার আবেদন-নিবেদন করেও আশানুরুপ ফল লাভে ব্যার্থ হয়েছেন।
এরই মধ্যে ৪ বছর আগে আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে উপনীত হন মুরাদ আলী। চিকিৎসায় সে যাত্রায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলেও মুরাদ আলীর শরীরের ডানপাশ প্যারালাইজড হয়ে যায়।
হতদরিদ্র হওয়ায় এমনিতেই সংসারে যখন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা, তার সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যায়বহুল চিকিৎসার খরচ। সংসারের চাকা ঘোরাতে নুন্যতম সম্মানজনক সব আয়ের পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে নির্মম বাস্তবতার মুখে তাকে বেছে নিতে হয় ভিক্ষাবৃত্তিকে।
গত ৩ বছরের বেশি সময় ধরে মুরাদ আলী প্যারালাইজড শরীর নিয়ে নিজ গ্রাম ছাড়াও আশেপাশের গ্রাম ও হাটবাজারে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন। ভিক্ষাবৃত্তির অর্থ দিয়ে স্ত্রী ৪ মেয়ে ও ১ ছেলের সংসার চালাচ্ছেন। সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে মরিয়ম গত বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবার কথা থাকলেও অর্থাভাবে সে পরীক্ষা দিতে পারেনি।