গত বছরের মতো এবারও দেশের কলেজগুলোতে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ২৬ মে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। ওইদিন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন নেয়া হবে। ১৮ জুন থেকে ১৩ দিন ধরে কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে। ক্লাস শুরু হবে ১০ জুলাই।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। যাতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে দিতে পারবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫টি। গতবছর শিক্ষার্থীর আবেদনের পছন্দক্রম থেকে একটি কলেজ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বোর্ড। এবার ১০টি কলেজের ফলই একসঙ্গে দেয়া হবে। এতে শিক্ষার্থী জানতে পারবে সে কোনো কলেজে মেধাক্রমে কোনো স্থানে আছে। ফলে সে নিজেই ঠিক করতে পারবে কোথায় সে ভর্তি হবে। মেধা তালিকা একবারই প্রকাশ করা হবে। পরে প্রয়োজনে একটি 'অপেক্ষমান' তালিকা প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা ১১ মে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করব। এবার ‘প্রবাসী’ এবং ‘ক্রীড়া’ নামে নতুন দুটি কোটা প্রবর্তন করা হয়েছে। এই দুই কোটায় দশমিক ৫ শতাংশ করে মোট ১ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। এছাড়া আগের মুক্তিযোদ্ধা ৫ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কমচারীর জন্য ২ শতাংশ এবং কলেজের বিভাগ-জেলার বাইরে থেকে পাস করা শিক্ষার্থীর ৩ শতাংশ কোটা থাকবে।
ভুয়া আবেদন ও ভর্তি ঠেকাতে নতুন পদ্ধতি আনা হয়েছে। তা হচ্ছে— আগে ভর্তির টাকা জমা দিতে হবে। এটা করলে একটি ‘ট্রানজেকশন’ (আর্থিক লেনদেন) নম্বর পাওয়া যাবে। ওই নম্বর নিয়ে পরে আবেদন করতে হবে। মেধাতালিকা প্রকাশের পর ছাত্র-ছাত্রীর মোবাইলে একটি পিন নম্বর যাবে। সেই পিন নম্বর নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। কিছু বাণিজ্যিক এবং গ্রামের স্কুল ও কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের এসএসসির ট্রান্সক্রিপ্ট আটকে দেয় এবং ভুয়া ভর্তি করে। তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে আলাদা পরিপত্র জারি করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এবার অনলাইনে আবেদন ফি গত বছরের মতই ১৫০ টাকা আর এসএমএসে ১২০ টাকা। ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে উপজেলায় এক হাজার, জেলায় দুই হাজার এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকা। ঢাকায় এমপিওভুক্ত কলেজে পাঁচ হাজার, আধা এমপিওভুক্ত কলেজে ৯ হাজার এবং ইংরেজি ভার্সনে ১০ হাজার টাকা নেয়া যাবে। উন্নয়ন খাতে এর বাইরে তিন হাজারের বেশি নেয়া যাবে না। এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশনসহ ৬টি খাতে ৩০০ টাকা নেয়া যাবে, যা বোর্ডে জমা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, এবারও শিক্ষার্থী বদলি বা মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা থাকবে। এটা নির্ধারণ করবে শিক্ষাবোর্ড। ভর্তিশেষে ১০ জুলাই ক্লাস শুরু হলেও বিলম্ব ফিসহ ভর্তি হওয়া যাবে ১০ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত।