তুচ্ছ কারণে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়ার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে দেওয়া লিখিত অভিযোগ তুলে নিতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাসুদেব রায়কে চাপ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার ফোন করে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে প্রক্টর দফতরে এনে চাপ দেয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাংস্কৃতিক কর্মী বাসুদেবের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতার পক্ষ নিয়ে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য প্রক্টরের চাপ দেওয়ার প্রতিবাদ জানায় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রক্টর ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদের এমন কর্মকা-ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, ‘উপাচার্য যেখানে হামলাকারীকে সাময়িক বহিষ্কার করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে প্রক্টর কিভাবে ভুক্তভোগীকে বাড়ি থেকে ফোনে ডেকে এনে এভাবে চাপ প্রয়োগ করেন।’
প্রক্টরের এমন কর্মকা-ের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে হামলাকারীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিযোগকারী বাসুদেব রায় মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করেছেন। তবে এখনও ফল প্রকাশ হয়নি। তিনি রাবি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট এবং গণশিল্পী সংস্থার সাবেক সভাপতি ছিলেন। আর অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন সজীব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া রাবি ছাত্রলীগও তাকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে বহিষ্কারের সুপারিশ করে। বাসুদেব রায় বলেন, ‘প্রক্টরের সঙ্গে যে কথা হয়েছে, তা আমার সংগঠনকে জানিয়েছি। তারা এবিষয়ে ব্যবস্থা নিবে। আমি কিছু বলতে পারছি না।’
এদিকে চাপ প্রয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী অফিসে এসে আমার সাথে কথা বলেন। কিন্তু অভিযোগ তুলে নেয়ার ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি। কিন্তু সে বিভিন্ন উল্টাপাল্টা কথা বলেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এর বেশি আমি কিছু জানি না।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বছর ৯ জুন গণশিল্পী সংস্থার কার্যালয়ে বাসুদেব রায়কে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন সজীব ও তার সহযোগীরা। এঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯দিন ব্যাপী আন্দোলন করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগ নেতা সজীবকে বিশেষ ক্ষমতাবলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেন উপাচার্য। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।