আলবদর প্রধান যুদ্ধাপরাধী জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির অপেক্ষায় সময় গুণছে পাবনার মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সন্তানসহ সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে মতিউর রহমান নিজামীর নিজ এলাকা সাঁথিয়ার মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ শহীদ পরিবারের সন্তানরা কুখ্যাত রাজাকার নিজামীর লাশ সাঁথিয়াতে কবর না দেয়ার জোরালো দাবি তুলেছেন।
তাদের দাবি উপেক্ষা করে এ রাজাকারের লাশ সাঁথিয়ায় আনা হলে তা প্রতিহত করাও হুশিয়ারি জানিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম মাস্টার এ ব্যাপারে জানিয়েছেন, নিজামীর লাশ সাঁথিয়াতে দাফন করতে দেওয়া হবে না। নিজামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দেয়া মুক্তিযোদ্ধা আবু সামা নিজামীর লাশ সাঁথিয়াতে কবর না নেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেছেন, নরঘাতক নিজামীর লাশ তাই সাঁথিয়ায় কবর দেওয়া হলে শহীদের আত্মা শান্তি পাবেনা।
মামলার অপর স্বাক্ষী জামাল উদ্দিনও নিজামীর লাশ সাঁথিয়াতে না আনার আহবান জানান। ধূলাউরি গ্রামের শহীদ আবুল কাশেম ফকিরের ছেলে আব্দুর রউফ মন্টু জানিয়েছেন, তার বাবা হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ছিল এই নিজামী। বাবা না থাকায় তারা ঠিক মতো লেখাপড়াও করতে পারিনি। বাবা হত্যাকারী নিজামীর লাশ সাঁথিয়ায় কবর দেওয়া হলে শত শত শহীদের আত্মা শান্তি পাবেনা বলে জানান।
পাবনা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব নরঘাতক নিজামীর লাশ পাবনার মাটিতে দাফন না করার হুশিয়ারী উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, গণ মানুষের দাবী উপেক্ষা করে নরঘাতক মতিউর রহমান নিজামীর লাশ পাবনায় দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্টরা দায়ি থাকবে।
এদিকে সহিংসতার আশঙ্কায় মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৬ জামায়াত শিবির সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে জিহাদী বই, লিফলেট ও ব্যানার। পাবনার পুলিশ সুপার আলমগীর কবির ১৬ জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে রাতে জানান, নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ প্রস্তুত। কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।