আলো ঝলমলে সকাল। অস্থির কিছু চোখ। মায়াভরা মুখের ছড়াছড়ি। সবাই অপেক্ষায়। কখন ফল প্রকাশিত হবে। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ। টাঙানো হল পরীক্ষার ফল। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। হাসি-গানে মুখরিত হয়ে ওঠে স্কুলের আঙ্গিনা।
ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ
প্রচণ্ড গরম আর গ্রীষ্মের উত্তাপরে সাথে পাল্লা দিয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতেছিল ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঘেমে নেয়ে পরম আনন্দে সফল হওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে হাসি মুখ নিয়ে একজন অন্যজনকে জরিয়ে ধরছে। প্রশ্ন করে জেনে নিচ্ছেও বন্ধুও জিপিএ-৫ পেয়েছে কিনা। জানার সাথে সাথে আনন্দ চিৎকার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মাঠের একপাশ থেকে অন্যপাশ।
ধারাবাহিকভাবে ভাল করা নগরীর স্বনামখ্যাত এই স্কুল থেকে এ বছর মোট এক হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে এক হাজার ৪২০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাশের হার ৯৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
IMG0
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এক হাজার ৪০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক হাজার ৩৬০ জন জিপিএ-৫ পায়। বাণিজ্য বিভাগে ২০৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৫৯ জন জিপিএ-৫ ও মানবিক বিভাগ হতে ১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বরাবরের মতই ভাল ফলাফল করেছে। তবে একজন শিক্ষার্থী উচ্চ গণিত বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ না নেয়ায় অকৃতকার্য হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, এবার আইডিয়াল স্কুল থেকে মোট ১ হাজার ৩৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের একজন ফেল করেছে। ফলে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
IMG1
এ বছর আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেয় মোট এক হাজার ২৫৭ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২১৫ জন। আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে মোট ১০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩০ জন।
ড. শাহান আরা বেগম বলেন, গত বছরের তুলনায় সামগ্রিকভাবে এবার এসএসসির ফল ভাল হলেও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফলাফল খারাপ হয়েছে। কেননা, এ বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমে গেছে। এর পেছনে সৃজনশীল গণিত পরীক্ষায় এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভাল করতে পারেনি।
বরাবরের মত এই ভাল ফলাফলের কৃতিত্ব সম্পর্কে এ শিক্ষক বলেন, শিক্ষক, মাতা-পিতা ও ছাত্র এই চারের সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণেই সাফল্য ধরে রাখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ভাল ফলাফলের জন্য পাঠ্য বই পুরোটা পড়ার বিকল্প নেই। আইডিয়াল স্কুলে নবম শ্রেণিতেই পুরো বই শেষ করা হয়। যা গ্রাম বা মফস্বলের স্কুলে করা হয় না। দ্রুত বই শেষ করার কারণে আমাদের ছেলে-মেয়েরা দশম শ্রেণিতে প্রচুর সময় পায়। এছাড়া বাবা-মাও ব্যাপক সিরিয়াস থাকেন। ফলে বরাবরের মতো ভাল ফলাফল আসে।
IMG2
মাইলস্টোন স্কুল
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলেও ছিল উচ্ছ্বাস। এবার এবছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ১ হাজার ৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দেয়। পাস করে শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬০৩ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৫৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে ৮৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৭৯ জন এবং এ গ্রেড পায় ২৬৩ জন। বাণিজ্য বিভাগ থেকে ১৬৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৪ জন জিপিএ-৫ এবং ১৪৩ জন এ গ্রেড পেয়েছে।
মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সহিদুল ইসলাম জানান, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা পুরো শিক্ষাবর্ষে একসাকে এগিয়ে চলি এবং একটি সেরা ফলাফল অর্জনে সক্ষম হই। পরীক্ষায় ভালো ফল লাভের পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী যেন ভালো মানুষ হয়ে জীবন গড়তে পারে সে ব্যাপারেও মাইলস্টোন কলেজ সর্বদা সচেষ্ট থাকে।