খুলনায় শ্রমিক নেতাকে বরখাস্ত, শ্রমিকদের বিক্ষোভ

 
খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের দাবি পূরণ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষোভ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেনকে।
 
বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের সময় তার কর্মস্থল ক্রিসেন্ট জুটমিলের নোটিশ বোর্ডে এই সংক্রান্ত নোটিশ টানিয়ে দেন মিল কর্তৃপক্ষ। তিনি এই মিলের তাঁত বিভাগের লাইন সর্দার পদে কর্মরত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি মিল সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
 
শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন গত ৪ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির সমর্থনে খুলনা অঞ্চলের টানা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়।
 
হঠাত্ করে সোহরাব হোসেনকে টার্মিনেট করার খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিল গেটে জড়ো হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নোটিশ বোর্ড থেকে সোহরাব হোসেনের টার্মিনেট সংক্রান্ত নোটিশ ছিঁড়ে ফেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এক পর্যায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 
এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা থেকে ক্রিসেন্ট মিলের শ্রমিকরা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন। কোন শ্রমিকই সকালের শিফট থেকে কাজে যোগ দেননি। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে মিলের উত্পাদন। একই সঙ্গে শ্রমিকরা মিলের প্রধান ফটকে মাইক লাগিয়ে গেট সভা করছেন। তারা অবিলম্বে শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেনের টার্মিনেট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
 
ক্রিসেন্ট জুটমিল সিবিএ’র সভাপতি দীন ইসলাম এবং কার্যকরী সদস্য এসএম আলতাফ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সকালের শিফট থেকে কাজ বন্ধ রেখে সভা করছেন। সভা শেষে সকাল ১০টার দিকে শ্রমিক নেতাদের নিয়ে সভা করা হবে। ঐ সভায় পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
 
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও মিলের প্রকল্প প্রধান রফিকুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি।
 
উল্লেখ্য, খুলনা অঞ্চলের স্টার জুটমিল, প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিল, ক্রিসেন্ট জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, খালিশপুর জুট মিলসহ সাতটি পাটকল শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ভাতাসহ ৫ দফা দাবিতে গত ৪ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন। পাশাপাশি ৫ এপ্রিল থেকে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। মধ্যে ৭ এপ্রিল থেকে ৩ দিন স্থগিত থাকার পর গত ১১ এপ্রিল থেকে পুনরায় অবরোধ করেন। এতে পাটকলগুলো অচল হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ এপ্রিল পাট মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বৈঠক করেন।
 
শ্রমিকদের ৪ সপ্তাহের মজুরি পরিশোধ, আরও ৬ সপ্তাহের মজুরি, পিএফ ফান্ড এবং গ্রাচ্যুইটিসহ অন্যান্য বকেয়া ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পরিশোধ, আন্দোলনের ৯ দিনের হাজিরা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়া হলে শ্রমিক নেতারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
 
এদিকে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার দুপুরে নগরীর খালিশপুরে জুট ওয়ার্কার্স ইনস্টিটিউট কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদ। এতে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন বলেন, গেল ২৫ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া সাপ্তাহিক মজুরি, ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতার এরিয়া ও ধর্মঘট চলাকালীন সময়ের নয়দিনের হাজিরার টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও জুটমিল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) তা বাস্তবায়ন করেনি। শুধু শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি পরিশোধ করা হয়। এছাড়া পাটক্রয়ে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।