কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বদলী বানিজ্যের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশে একই সমিতির আওতায় কর্মচারীদেরঅফিস টু অফিস বদলীর ক্ষেত্রে ৩ বছর অন্তর বদলির বিধান যথাযথভাবে পালনের জন্য বলা হয়। দেশের ৭৮টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে প্রায় সমিতিই বাপবিবোর চেয়ারম্যানের নির্দেশ পালন করে কর্মচারীদের বদলি করলেও কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বদলী বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে সম্প্রতি কয়েক দফায় দেড় শতাধিক কর্মচারীকেবদলীকরা হয়। এরমধ্যে আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আবার অর্ধ শতাধিক কর্মচারীকে বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে পছন্দমত জায়গায় বদলি ও পূনঃর্বহাল করা হয়। আবার একই কর্মস্থলে ৫ থেকে ১৫ বছর যাবৎ কর্মরত থাকা সত্বেও তাদের অজ্ঞাতকারনে বদলী করা হয় না। বদলীকৃত নিরীহ কর্মচারীদের আবার বছরের যে কোন সময় বদলির ফলে তাদের বিদ্যালয়গামী সন্তানদের লেখাপড়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এতে বদলিকৃত নিরীহ কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
তাদের দাবী সমিতির উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ যেন তাদের বিদ্যালয়গামী সন্তানদের কথা বিবেচনা করে শাস্তিমূলক ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় বছরের যে কোন সময় বদলি না করে ডিসেম্বর ও জানুয়ারীতে বদলী করার বিষয়টি বিবেচনা করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ৪ শতাধিক কর্মকর্তা/কর্মচারী কর্মরত। একই কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি সময় কর্মরত থাকায় কয়েক দফায় দেড় শতাধিক জনকে অফিস টু অফিস বদলি করা হয়। বদলিকৃতদের মধ্যে আবার অবৈধ আর্থিক সুবিধা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অর্ধশতাধিকজনকে পূর্বের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেনকে কুষ্টিয়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির বারখাদায় অবস্থিত সদর দপ্তর থেকে দৌলতপুর জোনাল অফিসে বদলী করা হলেও তাকে অজ্ঞাত কারনে ১৫ দিনের মাথায় আবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভেড়ামারা সাব-জোনাল অফিসে বদলি করা হয়।
একইভাবে লাইন টেকনিশিয়ান বিল্লাল হোসেনকে দৌলতপুর থেকে ভেড়ামারায় বদলি করা হলেও ১০/১৫ দিনের মাথায় আবার পুর্বের কর্মস্থলে যোগদানের সিদ্ধান্ত হয়। লাইনম্যান জসিমকে কুমারখালী থেকে মিরপুর, তহুরুলকে ছেউড়িয়া অভিযোগ কেন্দ্র থেকে দৌলতপুরে, কামরুজ্জামানকে কুমারখারী থেকে মিরপুর জোনালঅফিসে বদলি করা হলেও ১ মাসের মাথায় আবার তাদের বদলি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পছন্দমত স্থানে যোগদান করানো হয়। অন্যদিকে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার তাওফিকুর রহমান বাচ্চু ৮ বছর ধরে কুমারখালীতে, অফিসপিয়ন আনোয়ার হোসেন ও ইসরাইল হোসেন যথাক্রমে ১৫ ও ১০ বছর ধরে, হিসাবরক্ষক। হাকিমুজ্জামান ১০ বছর ধরে একটানা একই কর্মস্থলে এবংডাটা এন্ট্রি অপারেটরআঞ্জমান আরা ও মিটার রিপিয়ার কায়জার আলী কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্মলগ্ন থেকেএকই কর্মস্থলে কর্মরত থাকলেও তাদের অজ্ঞাত কারনে বদলি করা হয় না। এছাড়া ও বিলিং সহকারী ডেইজি, ছাবিনা, শেফালী, চঞ্চলা, শামিমা, মিটার রিডার আব্দুল আওয়াল, আক্তার হোসেন একই কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশি সময় কর্মরত থাকায় তাদের বদলি করা হলেও ৬ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই আবার তারা পূর্বের কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন। অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে কুষ্টিয়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হারুন অর রশীদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় তাঁর মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে বদলি বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা এজিএম (প্রশাসন) আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে অভিযোগের বিষয়ে আলাপ করলে তিনি অভিযোগগুলো ঠিক নয় বলে জানান।