পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, লায়ন্স ক্লাবগুলোর প্রায় শতবর্ষের মানবসেবা কার্যক্রম বৈশ্বিক কাঠামো অর্জন করেছে। এই সেবাকে তারা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পেরেছে। তারা নিজেরাই এখন একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। যার কারণে সুশৃঙ্খলভাবে বিশ্বব্যাপী এই সেবা কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এর কারণ আমরা একটি আধা সামন্তবাদী সমাজে বসবাস করছি, সেখান থেকে আমাদের আধুনিক সমাজব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে লায়ন্স ক্লাবের (ডিস্ট্রিক্ট-৩১৫বি২) দুদিনব্যাপী ২৩তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিস্ট্রিক্ট-৩১৫বি২’র গভর্নর লায়ন ওয়াহিদুজ্জামান বাবুরের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন লায়ন্সের সাবেক ইন্টারন্যাশনাল পরিচালক শেখ কবির হোসেন ও কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।
সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, লায়নরা সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করছেন। মানুষের সেবা করার সুযোগ সরাসরি সৃষ্টিকর্তার দান, যা চাইলেই পাওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু যাদের জন্য এই সেবা, সরাসরি তাদের কাছে না পৌঁছুতে পারলে সেবা যথাযথ হয় না। বরং অনেক সময় সেটি পীড়াদায়ক ঘটনারও জন্ম দেয়। যার কারণে গণমাধ্যমে খবর আসে—অমুক স্থানে সাহায্য নিতে গিয়ে এতজন হতাহত। সাহায্যের বাস্তব চাহিদা, সাহায্য গ্রহণকারী ও সাহায্য বিতরণের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণেই এ রকম ঘটছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জনগণকে সেবা বা সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া হয় জনগণেরই করের অর্থে। সুতরাং সেখানে পছন্দ-অপছন্দের কোনো বিষয় থাকা সমীচীন নয়। এই কাজে সংশ্লিষ্টদের মনে রাখা দরকার যে তারা রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন, কোনো দল বা ব্যক্তির নয়। এই ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার তখনই প্রতিষ্ঠা হবে যখন এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে এবং আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেব।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সেবা ও রাষ্ট্র পরিচালনা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সেজন্য ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সবক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছাড়া এই শৃঙ্খলা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, পারিবারিক বৃত্তের বাইরে বৃহত্তর পরিসরে সেবা করতে হলে সিংহ-হূদয় থাকা দরকার। লায়ন্সরা সেরকম চিত্ত নিয়েই সেবা করছেন, যা বিশ্বব্যাপী আজ প্রশংসনীয়।
লায়ন্সের সাবেক ইন্টারন্যাশনাল পরিচালক শেখ কবির হোসেন বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১৫ হাজার লায়নের পাশাপাশি লিওরাও কাজ করছেন। অন্যান্য এনজিওর সঙ্গে এর ব্যবধান রয়েছে। এখানে বিদেশি যে অনুদান পাওয়া যায়, সেটির পুরোটাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে খরচ করতে হয়, সঙ্গে নিজেদের আরো সমপরিমাণ অর্থও অনুদান দিতে হয়। লায়নরা শিক্ষা ও চক্ষু চিকিত্সাসহ বিভিন্ন সেবায় নিয়োজিত। সরকারের সহযোগিতা থাকলে এই কার্যক্রম আরো প্রসারিত হবে। লায়ন্সের আরেক সাবেক ইন্টারন্যাশনাল পরিচালক ও এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, লায়নরা শিক্ষা খাতে অনেক কাজ করছেন। সভাপতির বক্তব্যে ডিস্ট্রিক্ট-৩১৫বি২’র গভর্নর লায়ন ওয়াহিদুজ্জামান বাবুর বলেন, ‘এডুকেশন ফর এক্সিলেন্স’ প্রকল্পে লায়নরা চমত্কার কাজ করেছেন। সেখানে দুই লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বছর জুড়ে গরিবদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চালানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোসলেম আলী খান, ইঞ্জিনিয়ার এম এ আউয়াল, এ কে এম রেজাউল হক, অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন আবদুল্লাহ, জোনায়েদ ইকবাল, এটিএম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর উপস্থিত লায়নরা আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করেন। বর্তমান কমিটির গত এক বছরের কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয় অনুষ্ঠানে।