বাঁশখালীতে দ্বিতীয় দিনেও পুলিশের টহল

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লা বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ বন্ধে আন্দোলনরতদের নেতা লেয়াকত আলীকে না পেয়ে তার বাবা দুুদু মিয়াকে (৮০) আটকের খবর পাওয়া গেছে। গত রবিবার থেকে অব্যহত পুলিশি টহলের ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয়। রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযানের সময় লেয়াকতের বাড়ি থেকে দুটি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে- দুদু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
 
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় সাড়ে তিন’শ পুলিশ সদস্য বাঁশখালী থানা থেকে তিনটি এ্যাম্বুলেন্সসহ ৪৫টি জিপ-মাইক্রোবাস নিয়ে গন্ডমারায় রওয়ানা দেয় প্রায়। দিনভর তারা এস আলম গ্রুপের নির্মিতব্য কয়লা বিদ্যুত্ প্রকল্প এলাকাসহ গন্ডামারার বিভিন্ন রাস্তায় টহল দেয়। তারা সেখানে দুপুরের খাবার খায়। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ অন্তত ২০/৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে অভিযান শুরু করে। সাড়ে ছয়টার দিকে লেয়াকত আলীর বাড়িতে ঢোকে। এ সময় তারা লেয়াকত কোথায় আছে জানতে চায়। তাকে না পেয়ে তার বাবা ৮০ বছরের বৃদ্ধ দুদু মিয়াকে আটক করে। এ সময় লেয়াকতের বাড়ি থেকে লাইসেন্স করা অস্ত্র পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়। সাতটার দিকে পুলিশ গন্ডামারা থেকে বাঁশখালী থানায় চলে আসে। এর আগে গত রবিবারও বিপুল সংখ্যক পুলিশ গন্ডামারায় টহল দিয়েছিলো।
 
রাত সাড়ে আটটায় লেয়াকত আলীর বাবাকে বাঁশখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার সাইফুল্লাহ চৌধুরী ইত্তেফাককে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কি কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তা জানাতে পারেননি।
 
স্থানীয়রা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় লেয়াকত আলীর বাবাকে আটকের খবর পেয়ে শতশত নারী পুরুষ রাস্তায় নেমে পুলিশকে প্রতিরোধের জন্য জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। তবে চারদিকে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখে তাদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মানুষ দ্বিগবিদ্বগ ছুটোছুটি করতে থাকে। তবে পুলিশ গন্ডামারা ত্যাগ করায় কোন অপ্রীকির ঘটনা ঘটেনি।
 
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে গতকাল রাতে বাঁশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেনকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লেয়াকত আলীর বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। লেয়াকতের বাড়ি থেকে একটি দেশীয় বন্ধুক, একটি এলজি, চার রাউন্ড গুলি ও একটি হ্যান্ডমাইক উদ্ধার করা হয়েছে।