ভারতে ক্যান্সারের বড় শিকার নারী

ভারতে ক্যান্সারের বড় ‘শিকার’ হচ্ছেন নারীরাই! পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আর ৯ বছর পর, ২০২৫ সালের মধ্যে কম করে ৫ লক্ষ নারী মারা যেতে পারেন ক্যান্সারে। আক্রান্তের সংখ্যাটা হতে পারে তার অন্তত ৪/৫ গুণ।
 
এই ভয়াবহ ছবিটা উঠে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্থ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (ইউএসডিএইচএইচএস)-এর অধীনস্থ ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের (এনসিআই) হালের একটি সমীক্ষায়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
 
সমীক্ষায় জানা গেছে, বিশ্বে এই মুহূর্তে যদি ১৩ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তা হলে তাদের মধ্যে অন্তত এক জন ভারতীয়। আর তিনি এক জন নারী।
 
ভারতীয় নারীরা কোন কোন ধরনের ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন? স্তন, মুখ আর নিতম্বের (সারভাইক্যাল) ক্যান্সারে।
 
দিল্লির ম্যাক্সসুপার স্পেশালিটি হসপিটালের অঙ্কোলজি সার্ভিসের অধিকর্তা ডা. রঙ্গা রাও রঙ্গরাজু বলছেন, ভারতে প্রতি বছর সাড়ে ১২ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন ক্যান্সারে। তার মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন ৭ লক্ষেরও বেশি নারী। তাদের মধ্যে ফি-বছর ভারতে অন্তত সাড়ে ৩ লক্ষ নারী মারা যাচ্ছেন ক্যান্সারে। যে সংখ্যাটা আর ৯ বছর পর গিয়ে পৌঁছবে সাড়ে ৪ থেকে ৫ লক্ষে।
 
কিন্তু কেন এ দেশে নারীদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাটা এতট বেড়ে গিয়েছে হঠাত্ করে?
 
ওই সমীক্ষা থেকে তার বেশ কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। যেমন- ধূমপান, ব্যায়াম না করা, অত্যন্ত মদ্যপান করা, অনিদ্রা, কাজের চাপ, ভুলভাল খাওয়া দাওয়া, অসময়ে খাওয়া দাওয়ার বদভ্যাস।
 
আরও একটি ভয়াবহ ছবি উঠে এসেছে ওই সমীক্ষা থেকে। সেটি হল- ভারতে গ্রামের নারীদের চেয়ে ক্যান্সারে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শহর ও শহর-লাগোয়া মফস্বলগুলোর নারীরা। তাদের জীবনযাত্রার ধরনের জন্য। শহুরে নারীরা আগে কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তার পর বিয়ে করতে চান। ফলে, তারা বিয়ে করছেন অনেক বেশি বয়সে। আবার বেশি বয়সে বিয়ে করার পরেও তারা চট করে মা হতে চাইছেন না। মাতৃত্ব ঠেকিয়ে রাখার জন্য তারা নানা রকমের ‘হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’-তে বিশ্বাসী হয়ে উঠছেন। আর এই প্রবণতাগুলোই এ দেশে শহুরে নারীদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ও সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।
 
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘কন্ট্রোল্ড ওভারিয়ান স্টিম্যুলেশান (সিওএস), ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশান (আইভিএফ)-এর জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন চিকিত্সা নারীদের অসম্ভব ক্ষতি করছে। তাদের বেশি করে ঠেলে দিচ্ছে ক্যান্সারের দিকে। কারণ, ওই থেরাপিগুলো নারীদের ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টরন ক্ষরণের মাত্রা খুব দ্রুত হারে অনেকটাই বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা তাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে বহু গুণ।