ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক প্রত্যেক ধর্মের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, 'সকল ধর্মের মূলকথা মানবকল্যাণ। তাই মানবতার কল্যাণে সবাইকে কাজ করতে হবে।'
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বুধবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে 'বৌদ্ধ নীতিবাদ ও বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থা' শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়। পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরো এবং ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সম্পাদক স্বামী স্থিরাত্মানন্দজী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফাদার বেঞ্জামিন কস্তা সেমিনার উদ্বোধন করেন। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, 'ধর্মের মূলনীতি বা দর্শনকে গুরুত্ব না দিয়ে মানুষ ধর্মীয় আচার-আচরণকে প্রাধান্য দেয়। ধর্মের নামে চালায় নানা অধর্মীয় কর্মকাণ্ড।
তিনি বলেন, '১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এদেশে ধর্মের নামে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল।' গবেষণার মাধ্যমে এসব সত্য উদঘাটনের জন্য তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'সত্যকে অনুসন্ধান করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলকাজ।' জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে উপাচার্য বলেন, 'ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। ধর্মীয় অনুশাসন মেনেই আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে।'