বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছেন। একজন (শেখ হাসিনা) দেশের উন্নয়ন করছেন। আরেক জন নেত্রী (খালেদা) গোলযোগ সৃষ্টি করে দেশকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।
শিল্পকলা একাডেমিতে বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘শেখ হাসিনার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ও বিশ্বে আজ ধ্রুবতারা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’ গ্রন্থের সংবাদচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ১১ জন দিল্লী গেলাম, ১৭ মে তারিখ ফিরলাম। লাখ লাখ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিমানবন্দরে। আমার মনে হয়েছিল- আবার ১০ জানুযারি ফিরে এসেছে। সেদিন আমার মনে হয়েছে শেখ হাসিনার বেশে বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, মানিক মিয়া এ্যাভিনিউতে আমরা যখন আসলাম তখন কানায় কানায় পূর্ণ। নেত্রী স্ট্রেজে উঠলেন। তিনি বললেন, আপনাদের মাঝেই আমি আমার হারানো বাবা-মা-ভাই সবাইকে খুজে পাবো। আমরা অনেক দিন মিরপুর রোডে বসে মিলাদ পড়তাম। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমি ৩৩ মাস কারাগারে কাটিয়েছিলাম। আমি কারাগারে থেকেই সাংগঠনিক সম্পাদককের দায়িত্ব পেলাম। ১৯৮১ সালের সম্মেলন ঘিরে যে বিভক্তি হয়েছিল তার ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে শেখ হাসিনা। আমাদের সেদিনের সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল তা নেত্রী প্রমাণ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে দেয়। কি অত্যাচার আমাদের উপর। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নেত্রী আওয়ামী লীগকে আমার ক্ষমতায় নিলেন। এক-এগারর সময় আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করল। খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে আমাদেরকে অপমাণিত করেছিল। আমাদের নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে আমাদেরকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চাল রফতানির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা খুঁজবো। ইতোমধ্যেই আমাদের সঙ্গে কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা সাক্ষাৎ করেছে। এই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তার এক লোক মোসাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করছে। খালেদা বলেছিলেন, শেখ হাসিনার পতন না হলে আমি ঘরে ফিরে যাবো না। কিন্তু তিনি নিজেই কোর্টে গিয়ে আত্মসমার্পন করে ঘরে ফিরে গেছে। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে এই বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকতো না।
IMG0
তিনি বলেন, ২-৩ বছরের মধ্যে মেট্রোরেল চালু হবে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে এই বাংলাদেশে কোন দিন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হতো না। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে কোন দিন যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধীদের বিচার হতো না।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আজ বিশ্ব নেতায় পরিনত হয়েছেন। বিশ্বে আজ বড় কোন সভার আয়োজন হলে শেখ হাসিনাকে অতিথি করা হয়। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশ যখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই বিএনপি জামায়াত চক্র জঙ্গিদের ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে গুপ্তহত্যায় মেতেছে। আওয়ামী যুবলীগকে বিএনপি জামায়াতের এই অপচেষ্টাকে রুখে দাঁড়াতে এবং যেকোন ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে সর্বদা সর্তক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, যুবলীগ হচ্ছে দেশপ্রেমিক-সন্ত্রাসমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি সংগঠন। সুস্থ-সুন্দর সমাজব্যবস্থা গঠনে সবসময় এই সংগঠনটি দেশে গুরুত্বপূণ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজ্জামেল বাবু, গাজী টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ইকবাল কবির নিশান, এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক মনিউর রহমান, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, আতাউর রহমান, ফারুক হোসেন, বেলাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক, আসাদুল হক আসাদ, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, শ্যমল কুমার রায়, আবুল হোসেন মজুমদার, রওশন জামির রানা, এন আই আহম্মেদ সৈকত, মনিরুল ইসলাম হাওলাদার, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন অর রশিদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।