ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শক্তিশালী ঘাঁটি ফাল্লুজা পুনর্দখলের উদ্দেশ্যে অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি। লড়াই শুরুর আগেই শহরটি ছেড়ে যেতে প্রস্তুত থাকার জন্য রবিবার শহরবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরাকি বাহিনী।
নিজের অফিসিয়াল টুইটার পোস্টে আবাদি বলেন, ফাল্লুজাকে মুক্ত করার ক্ষণ উপস্থিত হয়েছে। মহা বিজয়ের চূড়ান্ত মূহুর্ত এগিয়ে আসছে এবং পালিয়ে যাওয়া ছাড়া দায়েশের (আইএস) কোনো আশা নেই। তিনি জানান, অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, সন্ত্রাস-বিরোধী বাহিনীগুলো, স্থানীয় নৃগোষ্ঠীগুলোর যোদ্ধারা এবং অধিকাংশ শিয়া বেসামরিক বাহিনীর যোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত একটি জোট বাহিনী অংশ নিচ্ছে।
ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট বাহিনী এ অভিযানেও বিমান হামলা চালিয়ে সমর্থন যোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানী বাগদাদের ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফাল্লুজা অনেকদিন ধরেই আইএসের শক্তিকেন্দ্র হয়ে আছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম শহর হিসেবে ফাল্লুজা আইএসের (তৎকালীন আইএসআইএল) দখলে যায়। এর ছয়মাস পর ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা দখল করে খিলাফতের ঘোষণা দেয় জঙ্গিগোষ্ঠীটি।
ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিয়া বেসামরিক বাহিনীগুলোকে, যাদের মধ্যে ইরান সমর্থিত একটি বাহিনী রয়েছে, শহরের মূল অংশের বাইরে অভিযান চালানো থেকে বিরত রাখা হতে পারে। স্থানীয় সুন্নি বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। রামাদি অভিযানেও এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
গত বছরের শেষ দিক থেকে ফাল্লুজা ঘিরে রেখেছে ইরাকি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক বাহিনীগুলো। আন্তর্জাতিক জোট বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে তাদের এই তৎপরতায় সমর্থন যুগিয়ে এসেছে। অপরদিকে শহরটির ভিতরে অবরুদ্ধ জঙ্গিরাও বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে যেতে বাধা দিয়ে আসছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরাকি সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শহরের যে সব পরিবার পালাতে পারেননি তারা সাদা পতাকা উড়িয়ে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করবেন। সম্প্রতি আইএসের দখলমুক্ত করা অন্যান্য ইরাকি শহরেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করে কিছুটা সাফল্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে শহরটির কিছু বাসিন্দা ইতিমধ্যেই শহর ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেছেন বলে সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে। রয়টার্স।