‘ডেড সি’ বা ‘মৃত সাগর’ শুনেই কেমন যেন অদ্ভুত ঠেকছে, তা-ই না? সাগর আবার মৃত হয় কেমন করে, তা-ই তো? প্রকৃতি নিজেই একটা বিস্ময়। আর মৃত সাগর হলো প্রকৃতির আরো কিছু বিস্ময়ের মতোই একটি। চলো জেনে নেয়া যাক এই মৃত সাগরের কিছু রহস্য আর তার কারণ।
সাগর বলা হলেও এটি মূলত একটি হ্রদ। পৃথিবীর গভীরতম লবণাক্ত জলাশয়ের মধ্যে একটি। আমরা জানি খাল, বিল, পুকুর, নদী, সাগরের পানিতে সাঁতার না জানলে মানুষ সহজেই ডুবে যায়। এমনকি ডুবে যাওয়ার ভয়ে মানুষ প্রকৃতির এসকল সুন্দর জলাশয়ে ডুব-সাঁতার খেলা থেকে দূরে থাকে। কিন্তু ডেড সি-তে মানুষ চাইলেও ডুবতে পারে না। এমনকি ডেড সি-তে নেই কোনো মাছের বসবাসও। জলাশয় মানেই মাছের আবাসস্থল, সেখানে ডেড সি-তে এমন কী আছে যার কারণে এখানে মাছ থাকতে পারে না? প্রকৃতির রহস্য জ্ঞানীরা গবেষণা করে উদ্ঘাটন করেছেন। অতিরিক্ত লবণের উপস্থিতিই এই হ্রদের পানিকে প্রাণীর বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছে। সাধারণ সাগর-মহাসাগরের পানির সাথে ডেড সি’র পানিতে দ্রবণীয় খনিজ উপাদানের তারতম্যের ফলাফলই হলো এই রহস্যের কারণ। ডেড সি-তে মিশে থাকা লবণে ১৪% ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ৪% পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ৫০% ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম ক্লোরাইড আছে। মৃত সাগরের লবণাক্ততা শতকরা ৩০%। এটি অন্যান্য সাগরের তুলনায় ৯.৬ গুণ বেশি লবণাক্ত। ফলে পানির ঘনত্ব ১.২৪ কেজি/লিটার। এসব কারণেই ডেড সি’র পানির প্লবতাশক্তি অন্যান্য জলাশয়ের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা জানি, কোনো বস্তুকে তরলে নিমজ্জিত করলে বস্তু ওপরের দিকে যে লব্ধি বল অনুভব করে তাকে প্লবতা বলে। যেহেতু ডেড সি’র পানির ঘনত্ব বেশি তাই প্লবতাও বেশি। মূলত, এই উচ্চপ্লবতার কারণেই এখানে কিছু ডোবে না। যে কেউ অনায়েসে ভেসে থাকতে পারে ডেড সি-তে। আর প্রাণীর অস্তিত্বহীনতার কারণেই এই হ্রদের নামকরণ করা হয় ডেড সি বা মৃত সাগর।