‘শিশু পাচার রোধে চাই আঞ্চলিক সহযোগিতা’

বছরে বিশ্বে প্রায় ৮০ লাখ শিশু হারিয়ে যায়। তার মধ্যে ৮০ হাজার যুক্তরাষ্ট্রে, ২ লাখ দক্ষিণ এশিয়ায়, ১ লাখ ভারতে এবং ২০১০-২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২১৯০ জন শিশু হারিয়ে গেছে। বুধবার ‘ইন্টারন্যাশনাল মিসিং চিল্ড্রেন ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনার এমন তথ্য দেন সংশ্লিষ্টরা। 
 
তারা বলেন, শিশু পাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা খুবই জরুরি। আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে শিশু পাচার প্রতিরোধে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
 
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। আরো উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোঃ রাহমাতুল মোনায়েম, প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডাইরেক্টর সেনায়েট গেব্রেজিয়াবার, সেন্টার ফর উইমেন এন্ড চিলড্রেন স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইসরাত শামীম প্রমুখ।
 
 মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, শিশু পাচার শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন। সরকার শিশু অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার মানব পাচার আইন পাস করেছে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে শিশু পাচার প্রতিরোধে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধারে সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে আঞ্চলিক হেল্প লাইন স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ হেল্প লাইন চালুর মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার সহজ হবে।
 
নাছিমা বেগম বলেন, শিশু পাচার একটি ভয়াবহ অপরাধ। এর প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের সমন্বয় খুবই জরুরি। সরকার এ সমস্যা সমাধানে সকলের সাথে একযোগে কাজ করবে।
 
সেনায়েট গেব্রেজিয়াবার বলেন, প্রতিটি শিশুই হারিয়ে যাওয়া অথবা পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে সকলের মাঝে সচেতনতা জরুরি।
 
ড. আবুল হোসেন বলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সামগ্রিক সেবা প্রদানের জন্য ১০৯২১ এই হেল্প লাইনটি চালু করেছে। এই হেল্প লাইনটি আঞ্চলিকভাবে সংযুক্ত করা খুবই জরুরি।