নবীনদের ছবিতে পরিপূর্ণ শিল্পীর প্রকাশ

 
নবীন শিল্পী বলা হলেও ক্যানভাসে একজন পরিণত শিল্পীর পরিচয় মেলে। শিক্ষার্থী হিসেবে বা বয়স দিয়ে শিল্পীকে মাপা যায় না—সেটা আরো একবার প্রমাণ মিলছে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনীতে। বিষয়বৈচিত্র্য, রং নির্বাচন ও নিজস্ব শৈলী সৃষ্টিতে বেশ পরিপূর্ণতার ছাপ বেশকিছু শিল্পীর কাজে। গতকাল বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালায় শুরু হয়েছে এ প্রদর্শনী। গ্যালারি ঘুরে শিল্পী রফিকুন নবী বললেন, তাদের বোধ হয় নবীন শিল্পী পরিচয়ে আটকে রাখা যায় না। তাদের কাজের মান এতটাই ভালো যে, নবীনদের নিয়ে পৃথক প্রদর্শনীর আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে আসছে। কাজের উত্কর্ষের ক্ষেত্রে নবীনরা অনেক বুদ্ধিদীপ্ত। ভাবনার জগতেও তারা প্রবীণদের মতো কাজ করছে। তাই এসব শিল্পী নিয়ে জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করাই ভালো। এবার স্থাপনা শিল্প জিতে নিয়েছে নবীন শিল্পী চারুকলা পুরস্কার। এছাড়া ভাস্কর্য,  ডিজিটাল আর্ট, বিমূর্ত ধারার চিত্রকর্মও এবার পেয়েছে পুরস্কার।
 
গতকাল শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘২০তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই ঘোষণা করা হয় বিজয়ীদের নাম। এবার ‘নবীন শিল্পী চারুকলা পুরস্কার’ পেয়েছেন সৈয়দ তারেক রহমান। পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণপদকের পাশাপাশি পেয়েছেন এক লাখ টাকা। ছাপচিত্রে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম মজুমদার, মিশ্র মাধ্যমে সনদ কুমার বিশ্বাস এবং তেল রংয়ে তানভীর জালাল। ক্রেস্টের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকই পেয়েছেন ৭৫ হাজার টাকা। ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের সম্মানসূচক পুরস্কার পেয়েছেন নিয়াজউদ্দিন আহমেদ, জয়নুল আবেদীন, জুবলী দেওয়ান ও আখিনুর বিনতে আলী।
 
উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব আক্তারী মমতাজ, শিল্পী রফিকুন নবী, শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক উত্পল কুমার দাস। উদ্বোধনী আয়োজন শেষে শিল্পকলা একাডেমির রেপার্টরি সঙ্গীত ও নৃত্য দলের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় সমবেত সঙ্গীত ও সমবেত নৃত্য। প্রদর্শনীতে ১৮৮ জন শিল্পীর ১৮০টি চিত্রকর্ম, ৩০টি ভাস্কর্য, ৮টি স্থাপনাশিল্প, ৭টি ভিডিও স্থাপনাশিল্প ও ২টি পারফর্মিং আর্টসহ মোট ২২৭টি শিল্পকর্ম ঠাঁই পেয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা এ প্রদর্শনীতে ৪৬৪ জন নবীন শিল্পীর মোট ১ হাজার ২০টি শিল্পকর্ম থেকে প্রদর্শনীতে স্থানপ্রাপ্ত শিল্পকর্ম বাছাই করা হয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ৯ জুন পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা ও রমজান মাসে বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা খোলা থাকবে প্রদর্শনী।